আমলকির উপকারিতা

আমলকির ১২টি উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন!

crickex banner ad

আমলকি একটি পরিচিত ফল। ভিটামিন সি এবং নানা পুষ্টিগুনে ভরপুর এ ফলটি দেহকে সুস্থ ও রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।  আমলকি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তাই আজ শেয়ার করবো আমলকির উপকারিতা, এর ব্যবহার এবং আমলকি খাওয়ার কিছু নিয়ম সম্পর্কে। 

আমলকি খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

ভেষজ ফলগুলোর মধ্যে আমলকি অন্যতম এবং উপকারী একটি ফল। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আমলকি দিয়ে আচার বানিয়েও খাওয়া যায়। চলুন তাহলে জেনে নিই আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। 

আমলকির উপকারিতা

১. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে 

আমলকি হজম শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে। নিয়মিত আমলকি খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। আমলকির গুড়ো প্রতি দিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস দুধ বা পানির সাথে মিশিয়ে খেলে এসিডিটির সমস্যা দূর হয়।

২. স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করতে 

আমলকি দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে। চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখ থেকে পানি পড়া, চোখের চুলকানি, চোখের ফুসকুড়ি এবং চোখের ছানি দূর করতে সাহায্য করে আমলকি।

৩. হার্ট সুস্থ রাখতে 

হার্ট সুস্থ রাখতে আমলকি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। আমলকি হার্ট ব্লক হতে বাধা সৃষ্টি করে। আমলকি ব্যাড কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত আমলকি খেলে হার্ট এট্যাকের ঝুঁকি থাকে না।   

৪. ভিটামিনের অভাব পুরণে

আমলকি বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল এবং খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ যা দেহের ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই আমলকি খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয় এবং ভিটামিনের অভাব জনিত রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়।  

৫. সর্দি-কাশি দূর করতে 

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। ফলে ঠান্ডা জনিত রোগ যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি রোগ সারতে সাহায্য করে। যারা শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানি রোগে ভুগছেন তারা নিয়মিত আমলকি খাওয়া শুরু করুন উপকার পাবেন। 

৬. ত্বকের যত্নে 

ত্বকের যত্নে আমলকি বেশ উপকারী। নিয়মিত আমলকি খাওয়ার ফলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ত্বকের ব্রন, কালো দাগ, মেছতা ইত্যাদি দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল ও লাবন্যময় করে তোলে। এছাড়াও আমলকি কুঁচকানো ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। 

৭. ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে 

 আমলকি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে রয়েছে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষকে বাধা প্রদান করে। আমলকি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। 

৮. চুলের যত্নে আমলকি

আমলকিতে রয়েছে এ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ। নিয়মিত আমলকি খাওয়ার ফলে চুলের ফলিকন মজবুত হয়, চুল ঝরা বন্ধ হয়, চুলের খুসকি এবং চুলকানি দূর হয়। এছাড়াও আমলকি দিয়ে তৈরি তেল মাথায় নিয়মিত ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। 

৯. রক্তশুন্যতা পুরণে

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন যা রক্ত তৈরি করে রক্ত শুন্যতা পুরনে সাহায্য করে। এছাড়াও নিয়মিত আমলকি খাওয়ার ফলে লোহিত রক্ত কনিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। 

১০. গলা ব্যথা দূর করতে 

আমলকি গলা ব্যথা দূর করতে দারুণ উপকারী। এমন অবস্থায় এক চা চামচ আমলকির গুড়োর সাথে দুই চা চামচ মধু এবং এক চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে গলা ব্যথা দূর হয়। 

১১. রুচি বৃদ্ধি করে 

আমলকির তেতো ও মিষ্টি রস মুখে রুচি ও স্বাদ বৃদ্ধি করে। অরুচি ও বমি ভাব এবং ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত আমলকি খাওয়া শুরু করুন। 

১২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমলকির উপকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমলকিতে রয়েছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত আমলকি খাওয়া উচিৎ। 

ভিডিওঃ প্রতিদিন আমলকী খাওয়ার ২০ টি কার্যকারি উপকারিতা জানুন 

আমলকি খাওয়ার নিয়ম 

ভেষজ ফলগুলোর মধ্যে আমলকি অন্যতম। আমলকির উপকারিতা আমাদের শরীরের জন্য অনেক  গুরুত্বপূর্ণ। আমলকি খাওয়ার কিছু নিয়ম জেনে নিন। 

আমলকি চিবিয়ে খাওয়া যায়। চিবিয়ে খেলে আমলকির রস ও স্বাদ মুখে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে ফলে মুখে রুচি বৃদ্ধি পায়। চিবিয়ে খেতে না পারলে জুস করেও খাওয়া যায়।

আমলকির রস টক এবং তেতো স্বাদের। তাই অনেকেই আমলকির সাথে লবন মিশিয়ে খান। এতে টক, তেতো অনেকটা কমে যায়। এছাড়াও আমলকি ছোট ছোট করে কেটে তার সাথে লঙ্কা মিশিয়ে খাওয়া যায়। 

এছাড়াও যারা আমলকি কাঁচা খেতে পারেন না, তারা আমলকির আচার বানিয়ে খেতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথমে আমলকি পরিস্কার করে ধুয়ে সেদ্ধ করে নিন। এরপর বীচিগুলো ছাড়িয়ে বিভিন্ন রকম মসলা দিয়ে ভেজে নিন। এতে আচার সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর হবে। 

আমলকির ব্যবহার

আমলকি শীতকালীন টক জাতীয় একটি ফল। শীতের মৌসুমে আমলকি খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। কারন শীতকালে আমাদের শরীর নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাই শীতকালে আমলকি খেলে সারা বছরই সুস্থ থাকা যায়। তাই সুস্থ থাকতে হলে শীতকালে নিয়মিত আমলকি খাওয়া শুরু করুন। 

আমলকির ফল পাতা ও গাছের ছাল ওষুধের কাজে ব্যবহার করা হয়। আমলকি শুকিয়ে গুড়ো করেও খাওয়া যায়। আমলকিতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে তাই একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এর প্রয়োজন হয়। তাই প্রতিদিন দুটি করে আমলকি খেলে ভিটামিন সি এর অভাব পুরন হয়।

শেষ কথা 

পরিশেষে বলা যায়, আমলকি একটি সেরা ফল। আমলকির উপকারিতা অনেক বেশি। এতে উপস্থিত ভিটামিন ও ওষুধি গুণ শারীরিক সুস্থতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত আমলকি খাওয়া শুরু করুন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top