ওজন কমাতে ওটস খাওয়ার নিয়ম

ওজন কমাতে ওটস খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন!

ওজন কমাতে ওটস খাওয়ার নিয়ম – ওটস এমন একটি খাদ্যশস্য যাতে প্রচুর পরিমান ফাইবার এবং প্রটিন আছে, কিন্তু কোন সুগার নেই। যে কারণে ওজন কমাতে চায় এমন ব্যক্তিদের ডায়েটে ওটস ব্যাপকভাবে সুপারিশ করা হয়।

ফল এবং অন্যান্য জিনিস যোগ করে ওটসকে আপনার খাদ্য তালিকায় একটি মজাদার এবং পুষ্টিকর খাবার হিসাবে রাখতে পারেন। ওজন কমাতে ওটস খাওয়ার নিয়ম জানতে বিস্তারিত পড়ুন।

ওটস কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

হ্যাঁ, আপনি যদি সঠিক নিয়ম মেনে ওটস খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার সামগ্রিক ওজন কমাতে সহায়তা করতে পারে। এটি কম ক্যালোরি এবং কম চর্বিযুক্ত স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। ওটস খাওয়ার পরে দীর্ঘসময় আপনার ভরপেট অনুভূত হয়, তাই ঘন ঘন খাবার অভ্যাস দূর হয় এবং আপনার শরীরে কম ক্যালোরি উৎপন্ন হয়। 

ওটসে থাকা প্রচুর পরিমাণ ফাইবার পাচনতন্ত্রকে সহায়তা করে। যদিও এটি একটি স্বল্পমূল্যের ডায়েট প্ল্যান, কিন্তু যে কোন দামি ডায়েট প্ল্যানের চেয়ে কার্যকর। তাছাড়া আপনি অনেক খরচ করে যে এক্সারসাইজের টুলস কিনে আনেন, ক্ষেত্র বিশেষ ওজন কমাতে এগুলোর চেয়েও বেশি উপকার করে ওটস ডায়েট। 

ওজন কমাতে ওটস খাওয়ার নিয়ম

সঠিক নিয়মে ওটস খাওয়ার মাধ্যমে আপনি ওজন কমাতে পারবেন। মৌলিক ধারণ হলো প্রতিদিন এক বা দুই বেলা প্রধান খাবার হিসাবে ওটস খাওয়া। তবে বিষয়টিকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। আপনাকে বিষগুলো ঠিকমতো বুঝে অনুসরণ করতে হবে। 

প্রথম পর্যায়:

প্রথম সপ্তাহে আপনি প্রতিদিন তিনবার খাবারে শুধুমাত্র ওটস খাবেন। অন্য কোন খাবার এড়িয়ে চলুন, তবে এই সময়ের মধ্যে ফল খেতে পারেন। বিকেলের স্ন্যাক্স হিসাবেও ওটসের সাথে সামান্য ফল এবং কিছু সবজি খেয়ে নিবেন।

দ্বিতীয় পর্যায়:

প্রথম সপ্তাহের পরে দিনে একবার বা দুইবার ওটস প্রধান খাবার হিসাবে রাখবেন। এই সময় পুষ্টিকর কিন্তু কম চর্বিযুক্ত খাবার খাবেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল এবং সবজি রাখুন। 

>> পুষ্টিকর খাবার নিয়ে পড়ুন…

এছাড়াও আরো একটি প্ল্যান অনেকে ফলো করে এবং ওজন কমাতে ওটস খাওয়ার নিয়ম হিসাবে এটিও সমানভাবে কার্যকর। আপনি সপ্তাহে ছয় দিন দুই বেলা করে প্রধান খাবার হিসাবে ওটস খাবেন। একদিন সাধারণ সবধরণের খাবার খাবেন, তবে অতিরিক্ত ক্যালোরি বা চর্বি আছে এমন খাবার এড়িয়ে যাবেন।

সাতদিনই টানা ওটস খাওয়া ঠিক হবে না। সাধারণত একবারে খাওয়ার জন্য আধা কাপ ওটসকে স্বাভাবিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 

ওটস খাওয়ার অন্যান্য উপকারিতা

ওটস ফাইবারে ভরপুর একটি খাবার। পানিতে রান্না করা আধা কাপ ওটসে প্রায় 2 গ্রাম ফাইবার, 3 গ্রাম প্রোটিন এবং শর্করা 0 থাকে। তাছাড়া এই পরিমানের ওটসে 2% ক্যালসিয়াম এবং 6% আয়রণ, খুব সামান্য ক্যালোরি এবং মাত্র 1.5 গ্রাম চর্বি রয়েছে। 

এটি খাওয়ার সুবিধার মধ্যে রয়েছে এটি হৃদরোগ এবং কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। তাছাড়া রক্তচাপ কমাতে ও হজমে সহায়তা করতে পারে। এই স্বাস্থ্যকর খাবারটি খাদ্য তালিকায় নিয়মিত থাকা দরকার। 

>> কিডনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা জেনে নিন!

শেষকথা

আপনি যদি ওজন কমানোর জন্যে ওটস খাওয়ার নিয়ম ঠিকমতো অনুসরণ করে খেতে পারেন তাহলে সামগ্রিক ওজন কমে যাবে। তবে আপনাকে প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার জন্য এই সময় নিয়মিত এক্সারসাইজ করা প্রয়োজন। এতে করে বেশি বেশি ক্যালোরি বার্ণ হয়ে যায়, দ্রুত ওজন কমে এবং শরীর ফিট্ থাকে।

>> ওজন কমানোর টিপস জানতে আরও পড়ুন…

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top