করলার উপকারিতা

করলার ১৬ টি উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন!

করলার উপকারিতা : করলা বা উচ্ছে সকলের কাছেই একটি পরিচিত সবজি। তেতো স্বাদের জন্য এই করলা খেতে অনেকেই অনিহা। তবে তেতো হলেও করলার উপকারিতা অনেক। 

করলা পাতাও বেশ উপকারী। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই করলার অসংখ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পড়ে ফেলুন আজকের লেখাটি। 

করলার উপকারিতা

করলা একটি পুষ্টিকর খাবার। মৌসুমী সবজি হলেও করলা প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। ভিটামিন এ, সি, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম, আয়রন, লৌহ, বিটাক্যারোটিন, জিঙ্ক এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট সহ আরও অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি সবজি হলো করলা। ।

করলার উপকারিতাগুলি ক্রমান্বয়ে নীচে তুলে ধরা হলো। 

১. হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে 

করলা হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কারণ করলা আঁশযুক্ত একটি খাবার। করলা খেলে খাদ্য দ্রুত হজম হয় এবং সেই সাথে পেটও পরিস্কার হয় ও অ্যাসিডিটির কোন সমস্যা থাকে না। করলা কৃমিনাশক হিসেবেও কাজ করে। 

২. রক্ত শূন্যতায়

করলা রক্ত শুন্যতা পুরণে সাহায্য করে থাকে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে এবং রক্ত শূন্যতা দূর করতে করলা কার্যকর ভুমিকা পালন করে। করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন ও লৌহ। তাই যারা রক্ত স্বল্পতায় ভুগছেন তাদের নিয়মিত করলা খেতে পারেন। 

৩. রুচি বৃদ্ধিতে 

অনেক সময় কোন কারণ ছাড়াই খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এমন অবস্থায় সকাল ও বিকেলে ১ থেকে ২ চা চামচ করলা পাতার রস খেলে অরুচি দূর হয়। এতে রুচি বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষুধা বাড়ে সেইসাথে হজম শক্তিও বৃদ্ধি পায়। 

এছাড়া করলা পাতার রস জ্বর সারতে সাহায্য করে।  

৪. ডায়াবেটিস প্রতিরোধে 

করলা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা পালন করে। করলার জুস রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন খালি পেটে করলা বা করলার জুস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মহৌষধের কাজ করে। 

৫. লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়

করলা লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত করলা খেলে শরীরে এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। এছাড়াও করলা লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি করে করলা

করলা দৃষ্টিশক্তির উন্নতি সাধন করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ ও সি যা শরীরে বিটাক্যারোটিনের ঘাটতি পূরণ করে চোখের দৃষ্টির উন্নতিতে কার্যকর ভুমিকা পালন করে। তাই চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে করলা খাওয়া উচিত।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় 

করলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। করলার বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাটা শক্তিশালী করে তোলে। এছাড়াও এতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন নামক উপাদান। তাই নিয়মিত করলা খেলে নানা জটিল রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়।   

৮. ক্যান্সার প্রতিরোধে

 করলায় রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন উপাদান। নিয়মিত করলা খেলে তাই ক্যান্সার হওয়ার আশংকা থাকে না। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি, লৌহ, আঁশ এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা বার্ধক্য দূরে সরিয়ে দেয়। 

৯. ফুসফুস সুস্থ রাখতে 

ফুসফুস সুস্থ রাখতে করলা বেশ উপকারী। করলার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে ফুসফুস ভালো থাকে। শ্বাসজনিত সমস্যা যেমন অ্যাঁজমা, ব্রংকাইটিস, গলায় প্রদাহ ইত্যাদি সমস্যা দূর করতেও করলা কার্যকর ভুমিকা রাখে। এছাড়াও করলার রস এলার্জি সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। 

১০. বাতের ব্যথা দূর করতে 

বাতের ব্যথা দূর করতে করলা দারুণ উপকারী। এক্ষেত্রে ৩ চা চামচ করলার রস হালকা গরম করে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে সকাল ও বিকেলে খেলে বাতের ব্যথা উপশম হয়। করলায় থাকা নানা 

ঔষধি উপাদান শরীরের বিভিন্ন ব্যথা উপশমে সাহায্য করে থাকে। 

১১. ত্বকের যত্নে করলা

ত্বকের যত্নে করলা বেশ উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। করলা ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বক কে টানটান করে তোলে এবং ত্বক হয়ে ওঠে লাবণ্যময় ও সুন্দর।   

ভিডিওঃ কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সমূহ জানুন।

করলার অপকারিতা 

করলার উপকারিতা বলে শেষ করার মতো নয়। তবে উপকারের পাশাপাশি এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী। 

  • শিশুদের ক্ষেত্রে করলা বিপদের কারণ হতে পারে। শিশুরা করলা খেলে পেটের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হতে পারে। 
  • বেশি পরিমাণে করলা খেলে লিভারের প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। 
  • করলা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। কিন্তু ডায়াবেটিসের ওষুধ চলাকালীন এটি হীতে বিপরীত হতে পারে। এতে ডায়াবেটিস নীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা ওষুধের পাশাপাশি অল্প পরিমাণে করলা খান।
  • গর্ভবতী নারীদের অধিক পরিমাণে করলা খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ এতে গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভকালীন সময়ে করলা বেশি না খাওয়ায় উত্তম। 
  • এছাড়াও পরিমাণের বেশি করলা খেলে হার্টবিটের স্বাভাবিক চলাচলকে অনিয়মিত করে দিতে পারে। বিশেষ করে অল্প বয়সীদের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে। 

পরিশেষ

করলার উপকারিতা এর অপকারিতার চেয়ে ঢের বেশি। তেতো স্বাদের করলা খেতে অনিহা হলেও আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। সঠিক করলা চাষ পদ্ধতি জেনে নিন!

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top