কলমি শাকের উপকারিতা

কলমি শাকের উপকারিতা এবং গুণাগুণ জেনে নিন!

কলমি শাকের উপকারিতা – শরীরকে সুস্থ সবল রাখতে আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি খেয়ে থাকি। প্রতিটি শাক-সবজিরই নিজস্ব কিছু গুণ রয়েছে। গুণ বিবেচনায় কলমি শাক অন্যতম। 

আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে কলমি শাক অন্যতম।  এতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য উপাদান রয়েছে। যা চোখ ভালো রাখে, হজমে সহায়তা করে, এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক পরিমাপে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই শাক সহজলভ্য ও এর গুণাগুণ ভালো হওয়ায় অধিকাংশের কাছেই বেশ পছন্দের।  

কলমি শাকের উপকারিতা সম্পর্কে আরো জানতে আজকের প্রবন্ধটি হতে পারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আর দেরি না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

কলমি শাকের উপকারিতা 

এই শাকের উপকারিতা ব্যাপক। এর উপকারিতা সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হবেন। কারো যদি কলমি শাক খেতে অনীহা থাকে তবে এই আর্টিকেলটি পড়ার পর তা দূর হয়ে যাবে। অতএব চলুন জানা যাক, কলমি শাকের উপকারিতাগুলি। 

  • কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা দেহের হাড় মজবুত করে। তাই বাচ্চাদের বেশি বেশি কলমি শাক খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। 
  • তাছাড়া কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। যা দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ফলে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা যায়। 
  • রক্তশূন্যতা দূর করতে কলমি শাক দারুণ কার্যকরী। কারণ কলমি শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ রয়েছে যা রক্তশূন্যতা দূর করে। 
  • নিয়মিত কলমি শাক খেলে রাতকানা রোগ উপশম হয়। 
  • যেকোন  স্থানে পোকা-মাকড় কামড়ালে সাথে সাথে কলমি শাক বেটে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দিন, দেখবেন ব্যথা দূর হয়ে যাবে। 
  • কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন বি-১ যা স্নায়ুতন্ত্রকে সবল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।  
  • কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন রয়েছে। এই ক্যারোটিন আমাদের দেহে ভিটামিন-এ উৎপন্ন করে । যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। 
  • যাদের ঘনঘন মাথা ব্যথা করে তারা যদি নিয়ম করে কলমির শাক খান তাহলে  তাদের মাথা ব্যথা দূর হয়ে যাবে। 
  • অনিদ্রা থেকে মুক্তি পেতে কলমির শাক খেতে পারেন। 
  • মেয়েদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে কলমি শাক বিশেষ সহায়তা করে। 
  • ঋতুশ্রাবের সমস্যা দূর করতে কলমি শাক সহায়তা করে থাকে। 
  • এই শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশক্তি রয়েছে। যা শারীরিক দুর্বলতা দূর করে রোগীকে সুস্থ করে তোলে। 

কলমি শাকের পুষ্টিমান ও পুষ্টিগুণ:

কলমি শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ঔষধী গুণ। আজ আমরা বেশ কিছু গুণের কথা আলোচনা করবো। 

আপনারা সবাই জানেন কলমি শাকের পুষ্টিগুণ অনেক।  কলমি শাক বিভিন্ন অসুখ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যেমন:- দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, দাত, হাড়, পেশি মজবুত করে, সর্দি, কাশি, জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করে।

>> কিসমিস খেলে কি হয়? কিসমিস খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন!

তাছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটি সহায়তা করে। কলমি শাকে যেসকল কিছু পুষ্টিমান রয়েছে তা হলো:- প্রতি ১০০ গ্রাম কলমি শাকে রয়েছে ২৯ কিলোক্যালরি। 

তাছাড়া পটাসিয়াম ৩১২ মি.লি গ্রাম, সোডিয়াম ১১৩ মি.লি গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৭৩ মি.লি গ্রাম, ফসফরাস ৫০ মি.লি গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৯.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেটস ৫.৪ গ্রাম ইত্যাদি পুষ্টিমান রয়েছে। 

>> আদার উপকারিতা -১৩ টি গুণাগুণ ৷ প্রতিদিন আদা খেলে কি হয়?

পরিসমাপ্তি:

শরীরের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য আমরা বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি খেয়ে থাকি। এদের মধ্যে কলমি শাক অন্যতম। কলমি শাকে- রয়েছে প্রচুর  পুষ্টিগুণ। এতে ভরপুর পুষ্টিগুণ থাকায় এটি আমাদের খাদ্যতালিকায় যোগ করা প্রয়োজন। 

কলমি শাকের উপকারিতা আপনার সুস্থতা বজায় রাখবে। তাই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেতে কলমি শাক খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top