ক্যাস্টর অয়েল কি ? ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম ।

ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে জানতে আমরা অনেকেই উৎসুক হয়ে থাকি। বর্তমান সময়ে চুল পড়া শুধু মেয়েদের জন্যেই নয়,  ছেলেদের জন্যেও হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি ভয়াবহ সমস্যা। তাই এই চুল পড়া রোধের উপায় হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম জানাটা খুবই জরুরি। তবে তার আগে, আমাদের জানতে হবে ক্যাস্টর অয়েল কি ?

ক্যাস্টর অয়েল কি ?

এই ক্যাস্টর অয়েল হলো ভিটামিন-ই, মিনারেলস, প্রোটিন, এবং ফ্যাটি এসিডের সংমিশ্রণে তৈরি একটি তেল যা চুল পড়া রোধে ও নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। এটি ব্যবহারের ফলে চুল পূনরায় তার উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা ফিরে পায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের সময় অবশ্যই আনরিফাইনড ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করতে হবে। কেননা, আনরিফাইনড ক্যাস্টর অয়েলে কার্যকরী প্রাকৃতিক গুণাবলি বিদ্যমান রয়েছে যা চুল এবং স্ক্যাল্পের জন্য খুবই উপকারি। 

ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম

ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম –

ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়ার মূলমন্ত্র হলো এটির যথাযথ ব্যবহার। সঠিকভাবে এটি ব্যবহার না করলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে। আসুন জেনে নিই এর বেশকিছু ব্যবহারবিধিঃ 

  • ব্যবহারবিধি-১: ক্যাস্টর অয়েল সাধারণত একটু ঘন হয়। তাই এটি ব্যবহারের পূর্বে অন্যান্য যেকোনো সাধারণ তেল যেমন; কোকোনাট অয়েল, অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল, মিশিয়ে ব্যবহার করুন। মিশ্রণটি সারারাত রেখে পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • ব্যবহারবিধি-২: ক্যাস্টর অয়েল চুলে লাগানোর আরেকটি পদ্ধতি হলো ভিটামিন-ই ক্যাপসুলের ব্যবহার। প্রথমে ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে দুটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিন। এবার আঙ্গুলের সাহায্যে মিশ্রণটি নিয়ে চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে লাগান। এবং এক থেকে দেড় ঘন্টা পর ভাল করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • ব্যবহারবিধি-৩: গরম পানির ব্যবহার করেও ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহার করা যায়। সেক্ষেত্রে প্রথমে ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে সমপরিমাণ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। অপর একটি পাত্রে গরম পানি তৈরি করুন। এরপর গরম পানিতে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। তারপর অন্তত ১৫ মিনিট তোয়ালেটি চুলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। 
  • ব্যবহারবিধি-৪: ৩ চামচ ক্যাস্টর অয়েল এর সাথে ১ টেবিল চামচ সরিষার তেল এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। এরপর এটি প্রায় ১ ঘন্টা চুলে লাগিয়ে রাখুন। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • ব্যবহারবিধি-৫: ডিমের ব্যবহার করেও ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহার করা যায়। প্রথমে একটি ডিম ফেটে নিন। এরপর এতে ক্যাস্টর অয়েল ও নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। ঘন্টাখানেক পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

উপরের গুটিকতক পদ্ধতির যেকোনো একটির সঠিক ব্যবহার করে আপনি আপনার চুল পড়া রোধ করতে পারেন। তবে অবশ্যই আনরিফাইনড ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। 

ক্যাস্টর অয়েল এর কিছু হেয়ার মাস্কঃ 

উপরের অংশে আমরা ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছি। প্রবন্ধের এই অংশে আমরা ক্যাস্টর অয়েল এর কিছু হেয়ার মাস্ক সম্পর্কে জানবো যা আরো ভালো ফলাফল পেতে আমাদের সহায়তা করতে পারে। 

  • হেয়ার মাস্ক-১: প্রথমে এক চা চামচ মধু, দুই চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল এবং একটি কাঁচা ডিম ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি ভালোমতো চুলে লাগান। আনুমানিক ১ ঘন্টা এটি রাখুন। এবং তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াবে এবং চুলকে করবে নরম ও মসৃণ। 
  • হেয়ার মাস্ক-২: সমপরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল, তিলের তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর একটি তোয়ালে গরম পানিতে নিংড়ে চুলে জড়িয়ে রাখুন। কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি একটি কার্যকরী পদ্ধতি। এই পদ্ধতি চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 

ক্যাস্টর অয়েল কি এবং ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে আপনারা মোটামুটি একটা ধারণা পেয়েছেন। প্রবন্ধের এই অংশে আমরা ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের কিছু টিপস উল্লেখ করবো। টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনারা উপকৃত হবেন, এমনটা আশা করা যায়। 

টিপসঃ 

ক্যাস্টর অয়েল চুলে ব্যবহারের নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করলে তবেই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সামান্য কিছু ভুল্ই হতে পারে আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়ার কারণ। এছাড়া ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে অনেকেই নানান সমস্যায় পড়তে পারেন। এক্ষেত্রে নিমোক্ত টিপসগুলো হতে পারে আপনার সহায়ক। 

  • টিপস-১: সাধারণত ক্যাস্টর অয়েল অন্যান্য তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করাটাই নিয়ম। তবে আপনি যদি অন্যান্য তেল মেশাতে না চান তবে খুব অল্প পরিমাণে ক্যাস্টর অয়েল নিবেন। এবং শুধুমাত্র স্ক্যাল্পে ব্যবহার করবেন। নতুবা ক্যাস্টর অয়েল এর ঘনত্ব বেশি হবার কারণে পরবর্তীতে এটি ওঠানো মুশকিল হয়ে পড়তে পারে।
  • টিপস-২: মানুষের শখের কমতি নেই। নানান জনের নানান শখ। এই শখের বসেই আপনি যদি চোখের পাপড়ি ঘন করতে চান তাহলে ক্যাস্টর অয়েল তেল ব্যবহার করতে পারেন। রাতে শোবার আগে কটন বাডস অথবা তুলার সাহায্যে পাপড়িতে লাগিয়ে শুয়ে পড়বেন। এবং সকালে উঠে ধুয়ে ফেলবেন। এক মাস পরেই ভালো ফল পাবেন। 
  • টিপস-৩: রাতে শোবার আগে ক্যাস্টর অয়েল তেল চুলে ব্যবহার করলে অবশ্যই হেড ক্যাপ অথবা তোয়ালে দিয়ে মাথা জড়িয়ে রাখবেন। এতে বালিশে তেলের দাগ লাগার সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস হবে। 

সর্বোপরি, চুল পড়া রোধ করতে এবং চুলের বৃদ্ধি ও মসৃণতা ফিরিয়ে আনতে ক্যাস্টর অয়েল এর কোনো বিকল্প নেই। তাই সম্ভব হলে এটি আপনিও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটির কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই এবং বাজারে সহজলভ্য। অতএব চুল নিয়ে যত দুশ্চিন্তা তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে কিনে আনুন ক্যাস্টর অয়েল। এবং ফিরিয়ে আনুন আপনার চুলের সৌন্দর্য। আরো পড়ুনঃ অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা – ১৯ স্বাস্থ্যকর টিপস

লেখকঃ আরিফুল আবির

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *