গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ৫ টি কার্যকারি উপায়!

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় – কোষ্ঠকাঠিন্য অত্যন্ত বিব্রতকর একটি সমস্যা, এটি দূর করার জন্য আমরা সবসময় সচেষ্ট থাকি। তবে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় জানা জরুরী,কারণ এই সময়ে এটি বেশ জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

গর্ভকালীন সময়ে গর্ভাশয় ধীরে ধীরে বড় হয়ে অন্ত্রের উপর একটি চাপ সৃষ্টি করে। যে কারণে এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও বেশি দেখা দেয়।

আমারা এখানে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় সম্পর্কে কিছু টিপস শেয়ার করবো। যেগুলো আপনাকে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি দিবে। বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন। 

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

আমরা এখানে যে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়গুলো বলেছি এগুলো সহজ এবং অত্যন্ত কার্যকর। আপনি সহজেই এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারন।

প্রচুর তরল পান করুন

আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভোগেন তাহলে তরল গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিন। পানি, তাজা ফল, স্বাস্থ্যকর সরবত বেশি বেশি খাবেন। এগুলো অন্ত্রের মধ্যেকার কঠিন পদার্থের মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করে এবং মল নরম রাখতে সহায়তা করে। 

লেবু মিশ্রিত গরম পানি এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকারী। কারণ এটি পেরিস্টালসিসকে (অন্ত্রে গতির মতো তরঙ্গ যা সংকোচন সৃষ্টি করে) উত্তেজিত করে। ফলে মল স্বাভাবিক থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়।

হালকা ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম মলত্যাগকে উৎসাহিত করে। সামান্য হাটাহাটিও এই ব্যাপারে আপনাকে সহায়তা করতে পারে। তাই দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম বা হটাহাটি করুন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকবে না।

>> সি সেকশন বা সিজারের পর পেট কমানোর উপায় জেনে নিন!

ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করুন

ফাইবার সহজে হজম হয় না এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এতে মল নরম এবং স্বাভাবিক থাকে, মলত্যাগের সময়ের ব্যবধান ঠিক থাকে। তাই যে সমস্ত খাবারে ফাইবার বেশি থাকে সেগুলো বেশি পরিমাণ খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

>> গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা – ১১ টিপস সহ বিস্তারিত জেনে নিন!

পেট ম্যাসাজ করুন

ম্যাসাজ পেট শিথিল করে, অস্বস্তি কমায় এবং মলত্যাগকে উৎসাহিত করে। যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। মাত্র ১৫ মিনিটের একটি কার্যকর ম্যাসাজ আপনার পেটকে সম্পূর্ণরূপে শিথিল করবে।

ম্যাসাজ প্রক্রিয়াকে আরামদায়ক করতে আপনি যে অবস্থানে সুবিধা মনে করেন সেভাবেই ম্যাসাজ করতে পারেন। দাড়ানো, বসা বা শুয়ে- যে কোন ভাবে ম্যাসাজ করা যায়। 

অল্প পরিমাণে বারবার খান

একবারে অতিরিক্ত খাওয়া পেটকে অতিরিক্ত চাপ দেয় এবং হজম প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল করে তোলে। সেই তুলনায় অল্প অল্প করে বারবার খাদ্য গ্রহণ পেটকে অতিরিক্ত কাজ করায় না।

প্রতিদিনের খাবারকে পাঁচ থেকে ছয়টি ভাগে ভাগ করে খেলে এগুলো সহজে হজম হয়। অন্ত্র এবং কোলনে মসৃণভাবে খাদ্য স্থানান্তর করা সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। 

উপসংহার

আমরা এখানে বেশ কিছু গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় সম্পর্কে বলেছি। গর্ভাবস্থা একজন নারীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়।

জটিলতা এড়াতে তাদের বিভিন্ন ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। উপরে বর্ণিত এই সামান্য কিছু টিপস্ মেনে চলার মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো বিব্রতকর সমস্যা সহজেই সমাধান করতে পারবেন।

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top