ছোলার উপকারিতা ও ছোলা খাওয়ার নিয়ম সহ বিস্তারিত

ছোলার উপকারিতা আমরা কমবেশি সবাই জানি । অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হলো ছোলা বা বুট। আমাদের দেশের মানুষের প্রিয় একটি খাবার ছোলা। এতে আছে পটাসিয়াম, ভিটামিন সি, মিনারেল  আমিষ,শর্করা,আঁশ, এবং ভিটামিন বি-৬ যা আমাদের হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়। রমজান মাসে ইফতারির সময়  জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা বা বুট। রোজা ছাড়াও প্রতি দিন  ছোলা  খাওয়া যায়। কাঁচা বা সেদ্ধ এবং তরকারি রান্না করেও ছোলা খাওয়া যায়। 

আসুন জানা যাক ছোলার উপকারিতা  সম্পর্কে :

# ছোলা খেলে কি হয় :

একটি পুষ্টিকর খাবার হলো ছোলা। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফলিক এসিড এবং আঁশ। এছাড়াও ছোলাতে আছে কপার, আমিষ,আযরন, ফসফরাস, ট্রিপটোফ্যান এবং পটাসিয়াম। নিয়মিত ছোলা খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ছোলাতে দ্রবনীয় এবং অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হৃদ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। যেহেতু ছোলা ফলিক এসিড যুক্ত তাই হাইপারটেনশন কমায় এবং রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।  

# ছোলা খেলে কি ওজন কমে ? ছোলার উপকারিতা

ওজন কমানোর জন্য সঠিক পুষ্টি উপাদানের যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। ওজন সঠিক রাখতে পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে ছোলা অন্যতম। ছোলা ভিটামিন, খনিজ এবং আঁশ সমৃদ্ধ তাই পেট ভরা রাখে অনেকক্ষন। যার ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। ফলে দেহের ওজন সঠিক থাকে।

ছোলার উপকারিতা

# কাঁচা ছোলা খাওয়ার নিয়ম কি :

কাঁচা ছোলা আমাদের দেহের জন্য অত্যান্ত উপকারী। তাই প্রতি দিন  সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ছোলার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা কম বেশি অনেকেই  জানি। উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এই ছোলা কাঁচা খাওয়ার ফলে আমাদের দেহের অনেক উপকার হয়। কাঁচা ছোলা পানিতে ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে আমিষ এবং এ্যান্টবায়োটিক দুটোই পাওয়া যায়। আমিষ দেহকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান করে  এবং এ্যান্টিবায়োটিক দেহের যে কোন অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

রান্না করা ছোলার চেয়ে কাঁচা ছোলার উপকারিতা  অনেক বেশি।  কারন পানিতে ভেজানো ছোলায় ভিটামিন বি এর পরিমাণ বেশি থাকে যার ফলে বেবি বেরি রোগ, মস্তিষ্কের গোলযোগ এবং হৃদপিন্ডের দুর্বলতার সঙ্গে লড়াই করে। কাঁচা ছোলায় রয়েছে জ্বর ভালো করার ক্ষমতা। কাঁচা ছোলা কৃমি নাশক হিসেবেও কাজ করে। ভিনেগার সাথে ছোলা ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে কৃমি মরে। মোট কথা কাঁচা ছোলা আামাদের দেহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তাই প্রতি দিন  পানিতে ভিজিয়ে এক মুঠো কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।  

# কাঁচা ছোলা খাওয়ার পরিমান : ছোলার উপকারিতা

প্রতিদিন পরিমান মতো কাঁচা ছোলা খেতে হবে। এর উপকারিতা যেহেতু অনেক বেশি তাই  প্রতি দিন ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোলা প্রতি দিন ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম খাওয়া  উচিত। এর বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। কাঁচা, সেদ্ধ এবং রান্না তিন রকম ভাবেই ছোলা খাওয়া যাবে। তবে রান্না করা ছোলার চেয়ে কাঁচা ছোলার উপকারিতা বেশি। কারন কাঁচা ছোলায় ভিটামিন বি-এর পরিমান বেশি থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক ভালো।

খালি পেটে ছোলা খাওয়া বাধ্যতামুলক নয় যে কোন সময়  ছোলা খাওয়া যাবে। তবে খালি পেটে ছোলা খাওয়াই উত্তম।  যেহেতু রান্না করা  ছোলার গুনাগুন কমে যায় তাই  কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো।  ছোলার উপকারিতা পেতে হলে প্রতি দিন রাতে এক মুঠো ছোলা পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া উত্তম। 

# ছোলা খাওয়ার উপকারিতা :  

ছোলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। ছোলাতে দ্রবনীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় প্রকার আঁশ থাকে ফলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং হৃদ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোন ঝুঁকি থাকে না। আঁশযুক্ত এই ছোলা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ছোলা হজমে সাহায্য করে। উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন সমৃদ্ধ ছোলা  আমাদের দেহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । ছোলা আামাদের দেহে এ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে ফলে দেহে ক্যান্সার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অসুখের সাথে লড়াই করে। 

ছোলায় থাকা ভোজ্য আঁশ , ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম হাড়ের সুস্বাস্হ্য বজায় রাখে এবং  শক্তিশালী করে তোলে। ছোলাতে আছে আমিষ, ফসফরাস, আয়রন ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ডি যা আমাদের শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ছোলা শরীরে  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেহেতু ছোলার উপকারিতা অনেক বেশি। তাই  ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

# ছোলার পুষ্টিগুন : ছোলার উপকারিতা

অত্যান্ত পুষ্টিকর এবং উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশের মানুষের একটি প্রিয় খাবার ছোলা। ছোলার উপকারিতা এবং পুষ্টি গুণ সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি।  এতে আমিষের উপাদান  থাকে ফলে আমাদের দেহ গঠনে সাহায্য করে। শুধু শর্করা এবং প্রোটিন নয় বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন মিনারেল  রয়েছে ছোলাতে। ছোলা আঁশযুক্ত তাই  পেট ভরা  থাকে ফলে বেশি খাওয়ার প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেয় যার ফলে দেহের ওজন সঠিক থাকে।

ছোলা খাওয়ার পর রক্তে শর্করার পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি  পায় তাই  ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা অনেক উপকার। লাতে রয়েছে প্রচুর আয়রন,  আমিষ,শর্করা, ফসফরাস, পটাসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম, ট্রিপটোফ্যান এবং কপার। ছোলার  এই সমস্ত উপাদান আমাদের শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

অতএব জানা গেল ছোলার উপকারিতা এবং পুষ্টি গুণ সম্পর্কে। সুতরাং শুধু রমজান মাসেই নয় প্রতিদিন ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *