টিউমার ভালো করার উপায়

টিউমার ভালো করার ৭টি উপায় জেনে নিন!

টিউমার ভালো করার উপায় – মানুষের শরীরে কোষের অস্বাভাবিক বা অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিকেই সাধারণত টিউমার বলে। আমরা অনেকেই টিউমার এবং ক্যানসারের পার্থক্য সঠিকভাবে না জানার কারণে টিউমারকেই ক্যান্সার মনে করি।

এগুলোর মূল পার্থক্য হলো সব টিউমার বেশরভাগ ক্ষেত্রে শরীরের জন্য বড় কোন ক্ষতির কারণ নয়, কিন্তু ক্যান্সার মানেই ভয়াবহ ক্ষতির সম্ভাবনা।  আসুন পুরা বিষয়টি কিছুটা বিস্তারিত আকারে জানা যাক। 

টিউমারের প্রকারভেদ

প্রধানত তিন প্রকার টিউমার রয়েছে-

১) বিনাইন (Benign) টিমার: এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এই ধরণের টিউমারগুলো বেশ ধীরে ধীরে বড় হয়। একজন ডাক্তার অপারেশনের মাধ্যমে সহজেই একে শরীর থেকে অপসারণ করতে পারে এবং সাধারণত এগুলো আর ফিরে আসে না। 

২) প্রিম্যালিগন্যান্ট (Premalignant): এই ধরণের টিউমারের কোষগুলো এখনও ক্ষতিকর বা ক্যান্সারযুক্ত নয়, তবে যে কোন সময় ক্যান্সারে পরিণত হওয়ার সম্বাবনা রয়েছে।

৩) ম্যালিগন্যান্ট: এই ধরণের টিউমারগুলো সাধারণত ক্যান্সার। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে সাধারণত কোষগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে জটিলতা সৃষ্টি করে।

ভবিষ্যতে একটি টিউমার কি ধরণের আচরণ করবে তা আগে থেকে নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভন নয়। বিনাইন টিউমারগুলোও প্রিম্যালিগন্যান্ট বা ম্যালিগন্যান্ট-এ পরিণত হতে পারে। তাই টিউমারকে অবহেলা না করে দ্রুত এর চিকিৎসা করা দরকার।

>> কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার, ঘরোয়া চিকিৎসা সহ বিস্তারিত জানুন!

টিউমার হওয়ার কারণ

আমাদের শরীর কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিদিন অসংখ্য কোষ মারা গিয়ে শরীর থেকে ঝরে যায় এবং সেখানে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়। কোষের এই মৃত্যু এবং সৃষ্টি বা বৃদ্ধির ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে টিউমার তৈরি হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সমস্যা হলেও টিউমার হতে পারে।

অন্যান্য পরিবেশগত পদার্থের তুলনায় তামাক টিউমার বা ক্যান্সারের ঝুঁকি ও মৃত্যু বৃদ্ধি করে। টিউমারের অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • বেনজিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক এবং বিষাক্ত পদার্থ
  • অত্যধিক অ্যালকোহল পান করা
  • পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ যেমন বিষাক্ত মাশরুম, আফ্লাটক্সিন নামক বিষ যা চিনাবাদাম গাছে জন্মাতে পারে
  • অত্যাধিক সূর্যালোক
  • জেনেটিক সমস্যা
  • রেডিয়েশন
  • বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমণ।

টিউমার ভালো করার উপায়

টিউমারের চিকিৎসা বলতে অপারেশন, কেমোথেরাপি বা এই ধরণের উন্নত চিকিৎসা, যেগুলো যথেষ্ট জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তাই টিউমার ভালো করার উপায় বলতে আপনাকে এটি প্রতিরোধ করতে হবে। যে সমস্ত বিষয়গুলো মেনে চলার মাধ্যমে আপনি টিউমার প্রতিরোধ করতে পারবেন তা হলো-

১) তামাক সম্পূর্ণরূপে পরিহার করুন, কারণ তামাক টিউমারের ঝুঁকি খুব বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি করে।

২) স্বাস্থ্যকর খাবার খান, যদিও এটি আপনার টিউমার প্রতিরোধের গ্যারান্টি দিতে পারে না, তবে বিভিন্ন ফল এবং স্বাস্থ্যকর সবজিগুলো টিউমারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

৩) একটি সুস্থ ওজন বজায় রাখুন এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন, কায়িক শ্রম টিউমার প্রতিরোধে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

৪) সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি বেশ ক্ষতিকর এবং টিউমারের অন্যতম কারণ হতে পারে, তাই অতিরিক্ত সূর্যালোক থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

৫) হেপাটাইটিস বি লিভারে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) বিভিন্ন যৌনাঙ্গের ক্যান্সারের জন্য দ্বায়ী। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে এই সমস্ত রোগ থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি এই সম্পর্কিত টিউমার বা ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে যায়।

৬) নিরাপদ যৌন অভ্যাস বজায় রাখুন, কারণ অনিয়ন্ত্রিত যৌন মিলনের ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং টিউমারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

৭) নিজের দিকে লক্ষ্য রাখুন এবং নিয়মিত ডাক্তারের সাথে কথা বলে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

শেষ কথা

টিউমার ভালো করার উপায় না জানলে টিউমার অনেকক্ষেত্রে ক্যান্সারে পরিণত হয়ে প্রাণঘাতি হতে পারে। তাই ক্যান্সার ভাল করার উপায় সম্পর্কে জানুন এবং সচেতন থাকুন। আমরা এখানে টিউমারের ঝুঁকি কমাতে পারে এমন অনেকগুলো বিষয় উল্লেখ করেছি। যগুলো মেনে চলার মাধ্যমে আপনি টিউমারের ঝুঁকি অনেকটা এড়াতে পারবেন বলে আশা করি। ধন্যবাদ।

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top