ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানির ১৫ টি উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন!

crickex banner ad

ব্যস্ত জীবনে পথ চলতে যখন শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বের হয়, তখন শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় স্বস্তি এনে দেয় ডাবের পানি। ডাবের পানি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি রয়েছে পুষ্টিগুন। এখন জেনে নিন ডাবের পানির উপকারিতা সম্পর্কে কিছু কথা ।  

ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন,অ্যামাইনো এসিড, এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ম্যাঙ্গানিজ এবং জিঙ্ক। এই সব উপাদান আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজন। নিচে ডাবের পানির উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে

ডাবের পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে। এতে রয়েছে নিয়াসিন, থায়ামিন, রাইবোফ্লবিন ও পাইরোডক্সিন। এছাড়াও এতে রয়েছে এ্যান্টি-ভাইরাল এবং এ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল প্রপাটিজ যা শরীরে কোন জীবাণু প্রবেশ করতে দেয় না এবং নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে। 

২. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডাবের পানির উপকারিতা রয়েছে। কারণ এতে আছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম শরীরে লবনের ভারসাম্য বজায় রেখে ব্লাড প্রেসারকে স্বাভাবিক রাখে। তাই যারা ব্লাড প্রেসারে ভুগছেন তারা নিয়মিত ডাবের পানি পান করুন। 

৩. ওজন কমাতে সাহায্য করে 

ডাবের পানিতে রয়েছে এনজাইম নামক এক প্রকার উপাদান যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি মেটাবলিজমের উন্নতি করে। এর ফলে খাদ্য ভালভাবে হজম হয় এবং হজম না হওয়া খাবার গুলো মেদ হিসেবে জমতে পারে না। ফলে ওজন কমতে শুরু করে। 

৪. সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ডাবের পানি 

ডাবের পানি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। ত্বক কে বিভিন্ন সংক্রমণ হতে রক্ষা করে ডাবের পানি। নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে ত্বকে ব্রন,মেছতা,বলিরেখা ইত্যাদি দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে। 

৫. হার্টের টনিক হিসেবে 

হার্টের স্বাস্থ্য উন্নতি করতে ডাবের পানির বিকল্প নেই। কারণ ডাবের পানি রক্তে ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে গুড কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় ফলে হার্ট এট্যাকের ঝুঁকি কমে যায়। 

৬. পানির ঘাটতি পূরণে

শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পানির ঘাটতি পূরণ করতে ডাবের পানি বেশ উপকারী। এতে উপস্থিত ইলেক্ট্রোসাইট কম্পোজিশন যা ডায়রিয়া এবং বমি ভাব দূর করে থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে যে খনিজ লবণ বের হয়ে যায় তা পুরন করে ডাবের পানি। 

৭. মাথা ব্যথা সারতে 

ডাবের পানি মাথা ব্যথা সারতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে। কারণ এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা মাথা ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ডিহাইড্রেসন অথবা মাইগ্রেনের জন্য মাথা ব্যথা করলে ডাবের পানি খেলে উপকার হয়। 

৮. বয়সের ছাপ দূর করতে 

ডাবের পানিতে রয়েছে সাইটোকিনিস নামে এক প্রকার এ্যান্টি-এজিং উপাদান যা শরীরের ওপর বয়সের প্রভাব পড়তে বাধা সৃষ্টি করে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তাই আজ থেকেই ডাবের পানি পান করা শুরু করুন। খালি পেটে ডাবের পানি পান করলে কি হয়?

৯. হাড় মজবুত রাখতে 

হাড়কে মজবুত রাখতে প্রয়োজন ক্যালসিয়াম। ডাবের পানিতে যে ক্যানসিয়াম রয়েছে তা হাড়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করতে ডাবের পানির উপকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়কে ভালো রাখে।

১০. কিডনির ঠিক রাখতে 

ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যা কিডনির ফাংশন উন্নতি করতে সাহায্য করে এবং কিডনির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আর তাই শরীর থেকে টক্সিন নামক উপাদান প্রসাবের সাথে বের হয়ে যায় ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। 

১১. স্ট্রেস কমাতে 

ডাবের পানি পান করার ফলে শরীর থেকে স্ট্রেস ঝরে যায়। এতে থাকা ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়কে মজবুত করে তোলে এবং পেশীর সচলতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে। 

অথ্যৎ ডাবের পানি স্বাস্থ্যের জন্য শুধু উপকারী নয়, এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। এখন জেনে নিন ডাবের পানির কিছু অপকারিতা সম্পর্কে।  আলুর ২০টি উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন!

ডাবের পানির অপকারিতা 

ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম যা রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। তাই যাদের ব্লাড প্রেসার আছে তাদের প্রতিদিন ডাবের পানি খাওয়া উচিৎ নয়। তবে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন খেতে পারবে।

নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে শরীরে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যায়। তাই যারা ওজন কমাতে চান তাদের ডাবের পানি বেশি না খাওয়ায় ভালো। ডাবের পানিতে চিনির পরিমাণ কম থাকে তবুও ডাবের পানি পান করলে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যায়। 

নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ডাবের পানিতে চিনির মাত্রা কম থাকলেও কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি বেশি পরিমাণে থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ডাবের পানি এড়িয়ে যাওয়াটাই ভালো। 

কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডাবের পানি পান করা সম্পুর্ণ নিষেধ। কারণ কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের হতে পারে না। ফলে ডাবের পানির পটাশিয়াম ও দেহের পটাশিয়াম একত্রে কিডনি এবং হৃদপিণ্ড দুটোই অকেজো করে দেয়। এমন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু অনিবার্য। তাই রোগীকে ডাবের পানি পান করানোর পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ। 

আমাশয় হলে কি খাবার খাওয়া যাবে | আমাশয় রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

শেষ কথা 

পরিশেষে বলা যায়,ডাবের পানি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না শরীরকে বিভিন্ন রোগ হতে মুক্তি পেতে ডাবের পানির উপকারিতা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত  রাখতে শুধু গরমকাল নয়, সারা বছর নিয়মিত ডাবের পানি পান করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top