থানকুনি পাতা | আদামনির ঔষধি গুণাগুণ ও এর কার্যক্ষমতা জেনে নিন।

থানকুনি পাতা কে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলভেদে আদামনি, ধূলাবেগুন, টেয়া, থুলকিড়ি , থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, মানকি, মানামানি, তিতুরা  সহ আরো নানা ধরনের নামে ডাকা হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থানকুনি বললে সবাই চিনতে পারে।

থানকুনি পাতা

অনেক  বাংলাদেশি, ভারতীয়, ইন্দোনেশীয়, মালয়েশিয়ান এবং ভিয়েতনামী-দের খাবারের মধ্যে থানকুনি একটি মূল উপাদান। এটি তিক্ত স্বাদ এবং সামান্য ঘাসযুক্ত ঘ্রাণ থাকে। থানকুনি হ’ল শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয়।

এক নজরে সম্পূর্ণ পোস্ট

পুষ্টিগত তথ্যঃ
থানকুনি পাতার উপকারিতা ও গুণাগুণঃ
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করেঃ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
চুল পড়া কমাতেঃ
ক্ষত সারাতেঃ

থানকুনি বাংলাদেশি ও ভারতীয় বিভিন্ন সবজি এবং সালাত তৈরিতে প্রচুর ব্যবহারিত হয়ে থাকে।

পুষ্টিগত তথ্য-

আন্তর্জাতিক খাদ্য গবেষণা জার্নালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে , ১০০ গ্রাম তাজা থানকুনি নিম্নলিখিত পুষ্টি সরবরাহ করে –

ক্যালসিয়াম: ১৭১  মিলিগ্রাম (আরডিআইয়ের ১৭%)

আয়রন: ৫.৬ মিলিগ্রাম (আরডিআই এর ৩১ %)

পটাসিয়াম: ৩৯১ মিলিগ্রাম (আরডিআইয়ের ১১%)

ভিটামিন এ: ৪৪২ মাইক্রোগ্রাম (আরডিআইর ৪৯%)

ভিটামিন সি: ৪৮.৫ মিলিগ্রাম (আরডিআইয়ের ৮১%)

ভিটামিন বি ২: ০.১৯ মিলিগ্রাম (আরডিআইয়ের ৯%

থানকুনি ডায়েটরি ফাইবারের একটি ভাল উত্স, যা মহিলাদের জন্য আরডিআইয়ের ৮ শতাংশ এবং পুরুষদের জন্য আরডিআইয়ের ৫ শতাংশ সরবরাহ করে।

থানকুনি পাতা ‘র উপকারিতা ও গুণাগুণ-

এই পাতার রয়েছে বিশেষ কার্যক্ষমতা। বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন থানকুনি পাতার রয়েছে অসাধারণ কিছু গুণাবলী। তাহলে চলুন থানকুনি পাতার উপকারিতা ও গুণাবলী সমূহ জেনে নেই-

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে-

থানকুনি পাতা দীর্ঘ সময় ধরে ভেষজ টনিক হিসেবে বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষভাবে যাদের স্মৃতিশক্তি দূর্বল তারা নিয়মিত এই পাতা খেতে পারেন। এই পাতা স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ কার্যকর।

২০১৭ সালের একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, এটি প্রত্যক্ষভাবে জ্ঞান বা স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়- থানকুনি পাতা

বলা হয়ে থাকে থানকুনি কুষ্ঠ থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত রোগের চিকিৎসা করতে পারে। নিয়মিত এই পাতা খেলে নানা ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

চুল পড়া কমাতে- থানকুনি পাতা

চুলের যত্নে থানকুনি বেশ উপকারি।  সাপ্তাহে দুই তিন বার এই পাতা খেলে চুলের গোড়া মজবুত হয়। আর অনেকাংশেই চুল পড়া কমে যায়। তাই যাদের চুল পড়ার সমস্যা আছে, প্রতি সাপ্তাহে ২-৩ বার এটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

ক্ষত সারাতে-

শরীরের কাটা, ছেড়া বা ক্ষত থাকলে সেই স্থানে থানকুনি বেটে এর রস লাগিয়ে দিন। দেখবেন খুব দ্রুতই ক্ষত সেরে যাবে।

জয়েন্ট ব্যথা কমাতে-

এটিতে প্রদাহ বিরোধী গুণাবলীর উপস্থিতির কারণে জয়েন্টের ব্যথা উপসম করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে হাড়ের ক্ষয় হ্রাস করতেও এই ভেষজ তি বেশ কার্যকারি।

আরো পড়ুন-

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *