পেয়ারা পাতার উপকারিতা

পেয়ারা পাতার ১৫টি কার্যকারি উপকারিতা জেনে নিন!

পেয়ারা পাতার উপকারিতা সম্পর্কে খুব একটা আলোচনা হয় না। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না, এটি অজস্র রোগের উপশম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 

পেয়ারা পাতার অসংখ্য গুণাবলি সম্পর্কে জানলে আপনি রীতিমতো অবাক হতে বাধ্য। 

জেনে নিন পেয়ারা পাতার ১৫ টি অসাধারণ উপকারিতা 

বলা হয় একটি পেয়ারায় ৪টি আপেল ও ৪টি কমলালেবু সমপরিমাণ পুষ্টি থাকে। কিন্তু পেয়ারার পাতাতে কী পরিমাণ পুষ্টি উপাদান থাকে তা আমরা অনেকেই জানি না। 

নিম্নে পেয়ারা পাতার ১৫টি উপকারিতা তুলে ধরা হলো। 

১. ওজন কমায়

পেয়ারা পাতার বায়োআ্যাকটিভ যৌগগুলি শরীরের কার্বোহাইড্রেড শোষণ কমায়। ফলে দেহের সুগার লেভেল এবং ক্যালরির মাত্রা ঠিক থাকে। তাই দেহের ওজন সঠিক রাখতে পেয়ারা পাতা খুবই উপকারি। 

২. ডায়বেটিস প্রতিরোধে

পেয়ারা পাতায় বিভিন্ন বায়োআ্যাকটিভ যৌগ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মধ্যে একটি হলো ফেনোলিক যৌগ। এটি ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ডায়বেটিস রোধ হয়। 

৩. কোলেস্টেরল এর মাত্রা ঠিক রাখে

পেয়ারা পাতায় রয়েছে হাইপোলিপিডেমিক গুণ। এটি সুগারের মাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি প্লাজমা কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমায়। এছাড়াও এটি শরীরের লিপিডের পরিমাণ কম রাখে এবং অক্সিড্যান্ট স্ট্রেস কমায়। 

৪. ডেঙ্গু জ্বরের উপশম

পেয়ারা পাতায় বিদ্যমান কোরেসেটিন ভাইরাস আক্রমণের সময় এনজাইম গঠনে বাধা দেয়। এবং এটি শরীরের প্লেটলেট বাড়ায় ও রক্তক্ষরণ কমায়। তাই ডেঙ্গু উপশমে পেয়ারা পাতা কার্যকরি হিসেবে ধরা হয়।  

৫. ডায়রিয়া রোধে

পেয়ারা পাতার নির্যাস ডায়রিয়া রোধে খুবই কার্যকর। এর হেলমিনিথিক গুণ পেটের সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে এটি ডায়রিয়া রোধের পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাগুলোরও সমাধান করে। 

৬. হজম প্রক্রিয়ায়

পেয়ারা পাতা পাচনতন্ত্রের জন্য খুবই উপকারি। এটি গ্যাস্ট্রিক উৎসেচক উৎপাদন করে এবং হজম ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও এটি গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে রক্ষা করে। 

৭. ত্বকের যত্নে

পেয়ারা পাতায় অধিক পরিমাণে ভিটামিন সি বিদ্যমান। এটি আপনার ত্বকের হাইপার পিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল। ৮/১০টি পেয়ারা পাতা পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে রেখে পরে জল দিয়ে ধুয়ে নিলে মুখের ব্রণ, দাগ ও মেছতা দূর হয়। 

৮. আ্যালার্জির সমাধান

পেয়ারা পাতা হিস্টামিন নিঃসরণে বাধা দেয়। তাই আপনার যদি এলার্জি থাকে তবে এটি আপনার জন্য বেশ কার্যকর। 

৯. ক্যান্সার প্রতিরোধে

পেয়ারা পাতা প্রটেস্ট গ্রন্থির বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পেয়ারা পাতা রস বানিয়ে খেতে পারেন তবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। 

১০. ব্রংকাইটিস প্রতিরোধক

পেয়ারা পাতা ব্রংকাইটিস প্রতিরোধী একটি উপাদান। এ রোগে শ্বাসনালীর যে প্রদাহ হয়, পেয়ারা পাতা তা নাশ করতে সহায়ক। 

প্রতিদিন চায়ের সাথে পেয়ারা পাতা মিশিয়ে খেলে ব্রংকাইটিস আক্রান্ত রোগীর আরাম হয়। 

১১. চুলকানি ভালো করে

পেয়ারা পাতার আ্যান্টি–ইনফেকশন গুণ ত্বকের যেকোনো ইনফেকশন রোধে কাজ করে। কয়েকটি পেয়ারা পাতা পেস্ট করে চুলকানি স্থানে লাগালে অল্প কয়েকদিনে চুলকানি ভালো হয়। 

১২. চুলের যত্নে

ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও পেয়ারা পাতা ভীষণ উপকারি৷ এতে বিদ্যমান আ্যান্টি–অক্সিডেন্ট নতুন চুল গজাতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। তাই চুলের যত্নে নিয়মিত পেয়ারা পাতা ব্যবহার করতে পারেন। 

এক্ষেত্রে পেয়ারা পাতাকে জলে ফুটিয়ে সে জল ছেঁকে নিতে হবে। এবং উক্ত জল নিয়মিত চুলে লাগাতে হবে। 

১৩. মাড়ির যত্নে

দাঁতে বা মাড়িতে ব্যথা হলে পেয়ারা পাতা পেস্ট করে তা দিয়ে দাঁত মাজতে পারেন। পেয়ারা পাতায় উপস্থিত আ্যান্টি-মায়ক্রোবাল দাঁত ও মাড়ির ব্যথা উপশম করে৷ 

১৪. ফুড পয়জনিং রোধ করে

পেয়ারা পাতার আ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান পেটের যাবতীয় সমস্যা রোধ করে। এবং তা ফুড পয়জনিং রোধে ভীষণভাবে কার্যকরি। 

১৫. যৌন চিকিৎসায়

পেয়ারা পাতা সেবনে স্পার্ম কাউন্ট বাড়ে৷ এতে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পেয়ারা পাতার আ্যান্টি অক্সিডেন্ট শুক্রাণুর বিষাক্ততা কমিয়ে আনতে ভীষণভাবে উপকারি। 

পেয়ারা পাতার ব্যবহার 

স্বাস্থ্য কিংবা ত্বক উভয়ের ক্ষেত্রেই পেয়ারা পাতার ব্যবহার রয়েছে। চলুন জেনে নি কিভাবে পেয়ারা পাতা ব্যবহার করবেন। 

  • পেয়ারা পাতার রস ওষুধের মতো খাওয়া যায়। 
  • চায়ের সাথে পেয়ারা পাতা মিশিয়ে খাওয়া যায়। 
  • পেস্ট বানিয়ে ত্বকে মাখতে পারেন। 
  • পেস্টের সাথে তেল দিয়ে শরীরে মাখতে পারেন। 
  • গরম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি খাওয়া যায়। 

পরিশেষ

পেয়ারা পাতার উপকারিতা অসংখ্য। তাই পেয়ারা খাবার পাশাপাশি এর পাতাকেও কাজে লাগাতে পারেন। পেয়ারা পাতাকে কাজে লাগিয়ে দৈনন্দিন জীবনের অসংখ্য সমস্যার সমাধান করা যায় সহজেই।

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top