ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার সমূহ এবং এর উপকারিতা জেনে নিন!

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার আমাদের জন্য খুবই উপকারী।  বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিটামিন ডি এমন একটি স্টেরয়েড হরমোন যা প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম তৈরিতে তুলনামুলক ভুমিকা রাখে।   

শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত ভিটামিন ডি এর অভাবে বিভিন্ন  সমস্যা দেখা দেয়। তাই সুস্থ থাকার জন্য আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।  

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারঃ

ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে বড় উৎস হলো সূর্য। সূর্যের আলো ছাড়াও বিভিন্ন খাদ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি। সেগুলো হলোঃ- কড মাছের যকৃতের  তেল, স্যালমন মাছ, পূনা মাছ, ডিম, মাসরুম ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মাছ, গরুর মাংস এবং কমলার জুসে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তাই, আমাদের দেহে ভিটামিনের মাত্রা ঠিক রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার বিবেচনায় আনতে হবে। 

এর অভাব জনিত রোগঃ

শরীরের রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভিটামিন ডি এর অভাবে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা  দিতে পারে। এর অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ অর্থাৎ পা বেঁকে  যেতে  পারে এবং মাথার খুলি বড় হয়ে যেতে পারে। বয়ষ্কদের ক্ষেএে হারক্ষয় এবং ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা ভিটামিন ডি এর কারনেই হয়ে থাকে।

  ভিটামিন ডি এর অভাবে অবসাদ এবং শরীরে ক্লান্তি ভাব আসে। এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা কমে যায়।  এর অভাবে চুল পড়া এবং এ্যাজমা দেখা দেয়।  পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মনকে প্রফুল্ল রাখতে ভিটামিন ডি এর অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমাদের ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিতে আরো সচেতন হওয়া আবশ্যক।

রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারঃ

অন্যান্য সকল পুষ্টি উপাদানের মতো ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার আমাদের শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

ভিটামিন ডি টাইপ খাবার এর অভাব জনিত রোগ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে রক্তে ভিটামিন ডি এর মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে সূর্যালোক নেয়ার কথা উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকেরা। এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ডি রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার এর উপকারিতাঃ

আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখতে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। শরীরের হাঁড় দাত এবং পেশী সুস্থ রাখতে যে ক্যালসিয়াম  দরকার হয় তা গঠনে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ডি রাখলে এবং সুর্যালোক দেহে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শরীরে পরিপূর্ণভাবে ভিটামিন ডি বিদ্যমান থাকলে অবসাদ ও ক্লান্তি দূর হয়। মোট কথা, ভিটামিন ডি আমাদের মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 

শেষ কথাঃ

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার এর ঘাটতি জনিত সমস্যা বেড়েই চলেছে। ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম গঠনে দারুণ ভুমিকা পালন করে। সুতরাং আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখতে ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার খেতে হবে। 

চিকিৎসকদের মতে, বাংলাদেশের মানুষ যখন  বাইরে যায় তখন তাদের শরীর পোশাক দ্বারা আবৃত থাকে তাই দেহে সূর্যলোক প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি খাদ্যদ্রব্য অধিক মুল্যের কারনে খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার রাখাও সম্ভব হয় না। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা মানুষের দেহে ভিটামিন ডি প্রবেশের জন্য সূর্যালোকের ওপর নির্ভর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

লিখেছেনঃ সামিয়া সাথি

আরো পড়ুনঃ

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *