মেথি খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সমূহ জেনে নিন!

মেথি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানাটা আমাদের জন্য অতীব জরুরি। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য মেথি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, আয়রন, ফাইবার পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি ও নিয়াসিন। 

প্রতি দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে খালি পেটে এক গ্লাস পানির সঙ্গে মেথি মিশিয়ে খেয়ে নিন, চমক দেখতে পাবেন। এতে রক্তে চিনির মাত্রা কমে যাবে এবং ডায়বেটিস থাকবে না। শরীরে বাড়বে জেল্লা। বার্ধক্য কে দুরে সরিয়ে তারুণ্য ফিরে আসবে। তাই চলুন দেখে নেওয়া যাক মেথি খাওয়ার নিয়ম

মেথি খাওয়ার নিয়ম

মেথি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অবশ্যই আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এবং সে অনুযায়ী মেথি খেতে হবে। তবে সাধারণত বেশকিছু মেথি খাওয়ার নিয়ম প্রচলিত আছে। সেগুলো আমরা নীচে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

পানিতে ভিজিয়ে মেথি খেলে এর গুনাগুন নস্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে, রোদে শুকিয়ে মচমচা করে খাওয়া যেতে পারে। বাজারে মেথি সাপ্লিমেন্ট কিনতে পাওয়া যায়।  মসলা, খাবার ; পথ্য। থ্রী ইন ওয়ান। কি এই থ্রি ইন ওয়ান ?  এই একটাই নাম হলো মেথি শাক হোক বা বীজ। প্রতি দিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস মেথির জল বা রান্নায় বা মেথি শাক খান  আর চমক দেখুন। মেথির স্বাদ যতই তেত হোক না কেন ডাইবেটিসের কার্যকরী উপশম হলো এই মেথি। 

রাতে শোবার সময় বা সকালে খালি পেটে মেথি দানা চিবিয়ে খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমাতে প্রাকৃতিক ফাইবার থেকে জন্ম নেই মেথি। ওজন কমানো বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে মেথিতে। খুব বেশি নয় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মেথি চিবিয়ে খান এতেই পার্থক্যটা স্পষ্ট বুঝবেন। স্থুলতা কমাতে প্রতিদিন সকালে মেথি ভেজানো পান করা জরুরি। 

দুটি  আলাদা গ্লাসে পানি দিয়ে প্রতিটাতে এক টেবিল চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন। এই পানি খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা দুর হয়। জ্বর হলে লেবুর রস ও মধুর সাথে মেথি মিশিয়ে খান। জ্বর থেকে মুক্তি পাবেন। মেথিতে বিদ্যমান সাইটোইস্ট্রোজেন নামক এক প্রকার যৌগ পদার্থ নারী দেহের প্রলাকটিন নামক হরমোনের মাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়। এই হরমোন নারী দেহকে সুগঠিত করে। 

মেথি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কিত বেশকিছু প্রশ্নের মধ্যে একটি হলো, রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে হলে কি ভাবে মেথি ব্যবহার করবেন? মেথি খাবার পূর্বে প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রতি দিন দুই বার ১৫ থেকে ২৫ গ্রাম মেথি খান। তিতকুটে মেথি খেতে না পারলে বাজারে মেথি সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায় সেটা খাওয়া যেতে পারে। আবার রান্নার সাথে মেথি মিসিয়ে বা মেথি চা খাওয়া যেতে পারে।

বাজারে ক্যাপসুল আকারে মেথি কিনতে পাওয়া যায় সেটাও খেতে পারেন। হালকা কুসুম গরম পানিতে মেথি মিশিয়েও খেতে পারেন। তবে শুধু মেথি খেলেই চলবে না। মেথি খাবার সাথে সাথে প্রতি দিন ব্যায়াম করতে হবে। বহু কাল থেকেই মেথির কদর চলে আসছে। এটি খেলে বিস্ময়কর উপকারিতা মিলবে। 

মেথি খাওয়ার নিয়ম

মেথির নানাবিধ উপকারিতা 

শুধু ডায়বেটিস বা স্থুলতা কমাতেই নয়, মেথি হলো সকল রোগের মহা ঔষধ। মেথির রসে সাপনিস এবং ভায়োজেনিসস  নামে এমন একটি  যৌগ পদার্থ আছে যা মানুষের শরীরে হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।  মেথিতে যে সকল উপাদান রয়েছে তা আমাদের শরীর কে রাখে সতেজ রাখে ও ত্বক টান টান করে এবং বার্ধক্য কে দুরে সরিয়ে তারুণ্য কে স্থায়িত্ব করে। প্রতিদিন মেথি দানা চিবিয়ে খেলে ওজন কমাতেও সাহায্য করে আবার মেথির দানা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও খুবই কার্যকরি। 

একটি পরিস্কার ভেজা কাপড়ে মেথি দানার গুড়ো পেস্ট তৈরি করে ফোড়া, পোড়া এবং চর্মরোগে লাগিয়ে দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও ত্বকের কালো দাগ ব্রনের দাগ এবং মেছতা দুর করতে মেথির দানার কোনো জুড়ি নেই। 

লেবুর রস এবং মধুর সঙ্গে মেথি দানার গুড়ো মিশিয়ে খেলে গলা ব্যথা ভালো হয় এবং কাশি দূর হয়ে যায়।

দেহের কোন জায়গায় ফুসকুড়ি হলে তাতে মেথি দানা বেটে লাগালে ফুসকুড়ি উধাও হয়ে যায়। এবং দেহের বিষাক্ত পদার্থ মেথি দানা খাবার মাধ্যমে বের হয়ে যায়। 

মেথি দানা বেটে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে দিলে চুল পড়া বন্ধ হয়, চুলের গোড়া শক্ত হয়, খুসকি দুর হয় এবং নতুন চুল গজায় ও চুল আরও উজ্জ্বল ও প্রানবন্ত হয়ে ওঠে।  আরো পড়ুনঃ চুল পড়া রোধে প্রাকৃতিক উপায় – ১৫টি সেরা টিপস

কিছু নির্দেশনাঃ

মেথি খাওয়ার নিয়ম ও নির্দেশনার প্রথম শর্ত হলো মাসের বেশি মেথি খাওয়া যাবে না। কারন মেথি বেশি খাবার ফলে শরীরে কিছু কিছু পার্শ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন ডাইরিয়া, গ্যাস বা পেটের গন্ডগোল হতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং শিশুদের মেথি না খেলেও চলবে।

সর্বোপরি, মেথি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা আমরা অনেকেই অবগত নয়। তাই মেথি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে একটা সুষ্ঠু ধারণা রাখা দরকার। যেহেতু উপাদানটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেহেতু আমাদের আস্তে আস্তে মেথি খাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ডাক্তাররা মেথি খাবার গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তরভাবে আলোচনা করেন এবং সর্বদায় মানুষকে মেথি খাবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই এটির উপকারিতা মাথায় রেখে প্রতিদিন অল্প করে হলেও আমাদের মেথি খাবার অভ্যাস করতে হবে। 

লেখকঃ আরিফুল আবির

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *