সিরিজ হারল বাংলাদেশ

ব্যাটিং বিপর্যয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ!

তিন ম্যাচের টি টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয়েছিল সফরকারী বাংলাদেশ এবং স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে ১-১ সমতায় ছিল সিরিজ।

সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারছিলো না জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার রেজিস চাকাভা এবং ক্রেইগ আরভিন শুরুটা ভালোই করেন। ১০ রানে ১৭ রান করা রেজিসকে তুলে নিয়ে প্রথম উইকেট শিকার করে নাসুম আহমেদ। পর

পর দুটি উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে দেয় মেহেদী হাসান। গত ম্যাচে মাঠ কাঁপানো সিকান্দার রাজাকে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরিয়ে দেয় মেহেদী। অধিনায়ক শন উইলিয়ামসকে সাজঘরে ফেরায় গত ম্যাচের ৫ উইকেট পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন। শন আউট হওয়ার পরের ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলে এসে প্রথম বলেই তুলে নেয় ক্রেইগ আরভিনের উইকেট।

এরপর মিল্টন শুম্বাকে মুস্তাফিজ ক্যাচ আউট করলে মাত্র ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। যখন জিম্বাবুয়ের কাছে শত রানই বহু দূর মনে হচ্ছে তখন দলকে আশার আলো দেখায় রায়ান বার্ল। বার্লের ঝড়ে উড়িয়ে দেয় নাসুম আহমেদকে। নাসুমের এক ওভারেই ৫ ছক্কা ও ১ চারে ৩৪ রান যোগ করে বার্ল।

সিরিজ হারল বাংলাদেশ: অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন বার্ল। বার্লের ঝড়ো ইনিংস এবং লুক জংওয়ের দারুন সঙ্গতে অনেক এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। রায়ান বার্ল ও লুকের জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ২০ বলে ৩৫ রান করা লুকা জংওয়েকে সাজঘরে ফিরালে ৭৯ রানের অসাধারণ জুটি ভাঙে। লুকার ৬ টি বাউন্ডারির মধ্যে ২ টি ছক্কা ও ৪ টি চার ছিল।

হাফ সেঞ্চুরির পর টিকতে পারেনি বার্লও। ২৮ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে হাসানের বলে লিটন দাসের হাতবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরে বার্ল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৬ রান। বাংলাদেশ পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান এবং হাসান মাহামুদ।

১৫৭ রানের মাঝারি টার্গেট তাড়া করতে মাঠে নামে লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমন। তবে শুরুতেই সাজঘরে ফিরে লিটন দাস। ৬ বলে ১৩ রান করে ভিক্টর নুয়াচির বলে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে এই হার্ড হিটার ওপেনার। আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন তার অভিষেক ম্যাচে মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফিরে।

নুয়াচির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিল্টন শুম্বার হাতবন্দি হয় ইমন। এর পরের ওভারেই এনামুল হক বিজয়কে বোল্ড করে ওয়েসলি মাধেভেরে। ১৩ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফিরে বিজয়। একটু আশার আলো দেখালেও জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন নাজমুল হোসেন শান্ত। শন উইলিয়ামসের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে লুক জংউইয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেয় শান্ত। এতে ২০ বলে ১৬ রান নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় শান্তকে। পঞ্চম উইকেটে ক্রিজে আসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সিরিজ হারল বাংলাদেশ: টি টুয়েন্টি সিরিজে রিয়াদ বিশ্রামে থাকলেও নুরুল হাসান সোহানের ইনজুরির কারণে দলে ফিরতে হয় রিয়াদকে। আফিফ হোসেনের সাথে দলকে টানতে শুরু করে রিয়াদ। তবে ২৭ বলে ২৭ রান করেই ব্র্যাড ইভান্সের বলে কিপারের হাত বন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরে রিয়াদ। রিয়াদের আউটের পরের বলেই কিপারের হাত বন্দি হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরে মোসাদ্দেক হোসেন।

জয়ের আশা যখন ক্ষীণ তখন মাঠে নেমে দারুন ব্যাটিং শুরু করে শেখ মেহেদী। ১৭ বলে ২২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হয় মেহেদী। নুয়াচির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সিকান্দার রাজার হাতবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরে মেহেদী। শেষ ওভারে বলে আসে জংউই। শেষ ওভারে হাসান মাহমুদ ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করলেও সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরেন হাসান।

আফিফের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের পরেও দল থেমে যায় ১৪৬ রানে। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৩৯ রান নিয়ে অপরাজিত ছিল আফিফ হোসেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নিয়েছে নুয়াচি এবং দুইটি উইকেট দিয়েছে ব্র্যাড ইভান্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে – ১৫৬/৮ (২০)
রায়ান বার্ল ৫৪ (২৮)
লুক জংওয়ে ৩৫ (২০)
ক্রেইগ আরভিন ২৪ (২৭)
হাসান মাহামুদ ২/২৮
মেহেদী হাসান ২/২৮

বাংলাদেশ – ১৪৬/৮ (২০)
আফিফ হোসেন ৩৯ (২৭)
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৭ (২৭)
মেহেদী হাসান ২২ (১৭)
ভিক্টর নুয়াচি ৩/২৯
ব্র্যাড ইভান্স ২/২৬

ফলাফল – জিম্বাবুয়ে ১০ রানে জয়ী।
২-১ এ সিরিজ জয় জিম্বাবুয়ের।
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ – রায়ান বার্ল।
ম্যান অফ দ্য সিরিজ – সিকান্দার রাজা।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top