হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

হাঁপানি রোগের লক্ষণ, ঘরোয়া চিকিৎসা, হোমিও চিকিৎসা এবং আধুনিক চিকিৎসা সহ বিস্তারিত জেনে নিন!

হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা আমরা ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালাই। ফুসফুসে অক্সিজেন বহনকারী অসংখ্য সরু পথ রয়েছে। এগুলোকে শ্বাসনালী বলে। পরিবেশ, ধূলাবালি বা এলার্জির কারণে এই নালীগুলি ফুলে উঠলে অক্সিজেনের পথ সরু হয়ে যায়। এবং হাঁপানি রোগের সৃষ্টি হয়। 

এই রোগ মোটেই কাম্য নই। যে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে আমরা বেঁচে থাকি সেই শ্বাসপ্রশ্বাস কার্যক্রমেই যদি বাঁধার সৃষ্টি হয়, তাহলে এর চেয়ে অস্বস্তিকর আর কিছু হয় না। সারা পৃথিবীতে হাঁপানি রোগের প্রধান উপশম হলো ইনহেলার। তবে ইনহেলার ছাড়াও বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ে হাঁপানি রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। 

ভিডিও তে শ্বাসকষ্ট থেকে মুক্তি লাভের উপায় দেখতে এখানে ক্লিক করুন!

আজকের নিবন্ধে আমরা হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সহ আরো নানান বিষয়ে আলোচনা করবো। হাঁপানি রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রবন্ধটি নিশ্চয় আপনার অনেক উপকারে আসবে। 

হাঁপানি রোগের লক্ষণ

রোগ চিহ্নিত করতে না পারলে রোগের চিকিৎসা সম্ভবপর হয় না। তাই হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসার আগে অবশ্যই আমাদের হাঁপানি রোগের লক্ষণগুলো জানা দরকার। নীচে হাঁপানি রোগের লক্ষণ গুলো দেয়া হলো: 

১/ হালকা কাশি রাতের বেলায় বেড়ে যায় এবং শুকনা অথবা শ্লেষ্মাজনিত ভারি কাশির প্রাদুর্ভাব হয়। 

২/ বুকের ভিতর শ্লেষ্মা জমাট বেঁধে থাকে এবং বুকে ভারি কিছু অনুভূত হয়। 

৩/ নিঃশ্বাসের সমস্যা, নাক বন্ধ হয়ে আসা এবং শুতে গেলে বুকে চাপ কিংবা ব্যথা অনুভূত হয়। 

৪/ প্রাথমিক পর্যায়ে গলা চুলকানোর লক্ষণ প্রকাশ পায়। 

৫/ শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার ফলে শ্বাসকষ্টে সমস্যা হয়। 

৬/ নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় দমবন্ধ লাগে এবং ভালোভাবে নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। হাঁপানির পরিমাণ বাড়লে নিঃশ্বাসের সকল পথ বন্ধ হয়ে আসছে- এমন মনে হয়। 

৭/ রাতের দিকে শুকনা কাশি বা শ্লেষ্মাজনিত কাশি বাড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে কাশি না থাকলে নিঃশ্বাসের সমস্যার আগমুহূর্তে কাশি শুরু হয়। 

৮/ বুকের ভিতর বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে নিঃশ্বাসের সাথে একধরনের শো শো আওয়াজ সৃষ্টি হয়। 

হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

হাঁপানি বা এজমা থেকে মুক্তির উপায় –

হাঁপানি শুরু হয় ফুসফুসে বাতাসের প্রবাহে বাধা পড়লেই। সাধারণত এটি আবহাওয়া পরিস্থিতি, অ্যালার্জি, শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ, বায়ু দূষণ, খাদ্য এবং নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে হাঁপানি হয়ে থাকে।

>> ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ | প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় । চিকিৎসা সহ বিস্তারিত!

চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে হাঁপানির অনেক চিকিৎসা রয়েছে। তবে হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে বসেই তাৎক্ষণিক প্রশান্তি পেতে পারেন। জেনে নিন কিভাবে খুব সহজ হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়

. সরিষার তেল

সরিষার তেলের সঙ্গে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। তেল হালকা গরম করে নিতে পারেন। এবার মিশ্রণটি ভালোভাবে বুকে ম্যসাজ করুন। এতে তাৎক্ষণিক হাঁপানি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

. আদা

কমবেশি সবাই আদার ওষুধি গুণের সঙ্গে পরিচিত। তবে হাঁপানি থেকে মুক্তি পেতে এটি একটি জাদুকরী উপাদানের মতো কাজ করে। দিনে ২ থেকে ৩ বার আদা এবং মধু দিয়ে চা বানিয়ে খেলে হাঁপানি থেকে পরিত্রাণ মিলে। আদা হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে বেশ কার্যকরী উপাদান হিসেবে কাজ করে থাকে। 

>> আদার উপকারিতা -১৩ টি গুণাগুণ ৷ প্রতিদিন আদা খেলে কি হয়?

৩. কফি 

ক্যাফেইন হাঁপানি রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। তবে দিনে ৩ কাপের বেশি কফি খাওয়া যাবে না।

. পেটের দ্বারা শ্বাস কৌশল 

এই কৌশলটির মাধ্যমে ফুসফুসে বাতাস চলাচল ঠিক রাখবে। শুয়ে বা বসে যেকোনোভাবে খেয়াল রাখুন আপনি ঠিক মতো শ্বাস নিতে পারছেন কিনা। প্রথমেই আস্তে আস্তে নাক দিয়ে শ্বাস নিন। আপনি যখন শ্বাস ত্যাগ করেন তখন পেট বুকের বিপরীতে বাইরে বের করে দিন। পেটের ভিতরের দিকে ঠুকিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

ওষুধ কিংবা চিকিৎসা যদি তাৎক্ষনিক ভাবে সম্ভব না হয় তবে আপনি খুব সহজে হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসার এই উপায়গুলো অনুসরন করে হাঁপানি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন, 

  • ডায়েটে পরিবর্তন করুন 
  • নিয়মিত মধু খান
  • রসুন ব্যবহার করুন 
  • আপনার ডায়েটে আদা অন্তর্ভুক্ত করুন 
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • কাঁচা হলুদ ব্যবহার করুন
  • বাষ্প স্নান নিন 
  • পরিষ্কার পরিবেশে থাকুন
  • ঘরে আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন

হাঁপানি রোগের আধুনিক চিকিৎসা

যখন হাঁপানি অতি মাত্রায় বেড়ে যায়, তখন হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা খুব একটা কার্যকরী হয়ে উঠে না। হাঁপানি রোগের আধুনিক চিকিৎসার মধ্যে ইনহেলার বা নেবুলাইজার খুব জনপ্রিয় একটি উপায়। এই উপায় অবলম্বন করে বেশিরভাগ রোগী হাঁপানির ওষুধ সেবন করেন। ইনহেলার বা নেবুলাইজার সরাসরি আপনার ফুসফুসে যেতে সাহায্য করে।

এলার্জেন পরিহার: 

এ্যাজমা বা হাঁপানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এলার্জি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চললে। প্রথমেই এলার্জি টেস্ট করে জেনে নেয়া দরকার কোন ধরনের এলার্জি দিয়ে শ্বাসকষ্ট হয়। 

>> এলার্জি জাতীয় খাবার – এই ৪ টি খাবার দূরে রাখুন!

ওষুধ প্রয়োগ: 

বাজারে অনেক ধরনের এ্যাজমার ওষুধ রয়েছে । ডাক্তার পরামর্শে প্রয়োজন মতো ওষুধ ব্যবহার করে রোগী সুস্থ থাকতে পারেন । 

>> হামদর্দ এর ঔষধ সমূহ | কোন রোগে কোন ঔষধ খাবেন বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন!

এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি: 

ভ্যাকসিন হলো  এ্যাজমা রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এলার্জি ভ্যাকসিনের মূল উদ্দেশ্য হলো যে এলার্জেন দিয়ে এ্যাজমা বা হাঁপানীর সমস্যা হচ্ছে সেই এলার্জেন স্বল্পমাত্রায় প্রয়োগ করা হয় যা পরবর্তীতে এই সমস্যা হওয়া রোধ করে। 

আগে ধারণা করা হতো এ্যাজমাতে একবার আক্রান্ত হলে তা আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশেই এই রোগের সুচিকিৎসা মিলছে। অবহেলা করলে এবং রোগ অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে হাঁপানি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

হাঁপানি রোগের হোমিও চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা অনুসারে তিনটি রোগ-বীজ হলো সব ধরনের অসুস্থতার মূল কারণ, 

  • সোরা
  • সাইকোসি,
  • সিফিলিস

এই তিনটি এ্যাজমা রোগের জন্য দায়ী।

পরিসমাপ্তি

আর্টিকেলে প্রথমেই আমরা জেনেছি যে হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা হাঁপানির জন্য বেশ কার্যকর। তবে এরই পাশাপাশি হাঁপানি রোগের হোমিও চিকিৎসাও হাঁপানির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। সামগ্রিক উপসর্গের ভিত্তিতে ওষুধ নির্বাচনের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করা হয়।  এটিই একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে রোগীর কষ্টের সমস্ত চিহ্ন এবং উপসর্গগুলো দূর করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের অবস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।

তবে আধুনিক চিকিৎসা থেকে হোমিও চিকিৎসা কিছুটা সময় সাপেক্ষ কিন্তু কার্যকরী। আপনি যদি সময় নিয়ে হাঁপানি থেকে পুরোপুরি পরিত্রাণ পেতে চান তাহলে অবশ্যই ভাল হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লিক করুন!

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top