Bicozin

BICOZIN কীসের ঔষধ? চলুন জানি এর কার্যকরী সব তথ্য!

Bicozin হচ্ছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের একটি পণ্য।  এটির জেনেরিক নাম ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং জিঙ্ক। Bicozin ঔষধটি ট্যাবলেট এবং সিরাপ দুই ধরণেরই হয়ে থাকে।

আজকের আলোচনা থেকে আমরা জানবো Bicozin এর কার্যকারিতা, খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা, অপকারিতা এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে। চলুন শুরু করি। 

Bicozin  কোন রোগের ওষুধ  এবং এটি কেন খায় ?

বিকোজিন মূলত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং জিনকে সমন্বয়ে গঠিত একটি ঔষধ যা মানব দেহের বেশ কিছু জটিল সমস্যা নিরসনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

মানুষের শরীরের পুষ্টি উপাদান সবসময় একই অনুপাতে থাকে না।  বয়সের সাথে সাথে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি শুরু হয়।  এছাড়াও আমরা অনেক সময় বিভিন্ন রকমের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।  বিভিন্ন অসুখ থেকে মুক্তি পাবার পর আমাদের শরীরে অনেক পুষ্টি ঘাটতি শুরু হয়। 

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আমাদের মানবদেহের কিছু কার্যপ্রণালী সাধন করে থাকে।  এটি মানবদেহের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বি বিপাকে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে।  

পাশাপাশি জিংক আমাদের শরীরে হজম প্রক্রিয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  Bicozin সিরাপ এবং ট্যাবলেট মানবদেহের এই জিংক এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভাবে সহায়তা করে।  তাই এই ঘাটতি পূরণের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা বিকোজিন ঔষধটি সেবন করে থাকি। 

Bicozin ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

বিকোজিন সিরাপ এবং ট্যাবলেট এর দুইটি ধরনের কারণে এদের মাত্রা বিধি ভিন্ন হয়ে থাকে।  চলুন জেনে নেয়া যাক বিকোজিন  ট্যাবলেট এবং সিরাপ সেবন মাত্রার পরিমাণ কেমন হয়ে থাকে-

Bicozin ট্যাবলেট এর সেবন মাত্রা:

এই ট্যাবলেটটি  সেবনের মাত্রা সাধারণত শরীরের ওজন অনুযায়ী  নির্ধারিত হয়ে থাকে।  প্রাপ্তবয়স্ক অথবা শিশু যাই হোক না কেন শরীরের ওজন ৩০ কেজির উপরে হলেই এক থেকে দু দুটি ট্যাবলেট দৈনিক প্রয়োজনমতো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিনে দুই থেকে তিনবার দেয়া যেতে পারে।

Bicozin সিরাপ এর সেবন মাত্রা:

  • শিশুদের ক্ষেত্রে- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক চা-চামচ করে মিনি অ্যাপ থেকে দুইবার প্রয়োজনমতো দেয়া যাবে।
  • বাচ্চা শিশুদের ক্ষেত্রে- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ২ চা চামচ করে দিনে ১ থেকে ৩ বার প্রয়োজনমতো দিতে হবে। 
  • প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে-  চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ২ চা চামচ করে দিনে দুই থেকে তিনবার দিতে হবে। 

Bicozin এর উপকারিতা

ঔষধ ট্যাবলেট বা সিরাপ যাই হোক না কেন তার উপকারিতা সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   ঔষধের উপকারিতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনি নিজে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের সঠিক ব্যবহার  নিশ্চিত করতে পারবেন।  চলুন Bicozin  ঔষধের উপকারিতা সম্পর্কে জানি। 

  • প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে জিংক এর অভাবে ক্ষুধামান্দ্য হতে পারে। বিকোজিন শরীরের জিংক এর অভাব পূরণ করে। 
  • বিকোজিন  মানবদেহের স্বাদ এবং ঘ্রাণ গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। 
  • Bicozin ঔষধ মানুষের বিষন্নতার প্রবণতা কে রোধ করে। 
  • আপনাকে যদি নখে সাদা দাগ দেখা দেয়  তাহলে Bicozin ঔষধ সেবনে এই সমস্যা দূর হবে। 
  • বিকোজিন ঘন ঘন ইনফেকশন এর প্রবণতাকে কমিয়ে দেয়।  
  • এই  ঔষধটি দূর্বল প্রজনন ক্ষমতাকে সবল করতে সহায়তা করে।  
  • প্রস্টেটের সমস্যা এবং মানসিক সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।  
  • Bicozin দেরিতে ঘা শুকানো, দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ডায়রিয়া, অমসৃন ত্বক ও ওজন হ্রাস জনিত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে পারে।

Bicozin এর  অপকারিতা

বিকোজিন টি সেবনের পর বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিকোজিন সাধারণত সু সহনীয়। তবে কিছু সমস্যা হতে পারে যেমন:

  • বমি বমি ভাব 
  • বমি হওয়া  
  • ডায়রিয়া এবং পাকস্থলীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে 

 তবে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সবসময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।  ওষুধ সেবনের সময় যদি রোগীর এই সমস্যাগুলো দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে-

Bicozin এর দাম কত ?

প্রতিটি বিকোজিন ট্যাবলেট এর বাজার মূল্য ৩.৫০ টাকা করে।  এবং এক প্যাকেটের মূল্য ১৫০ টাকা।বিকোজিন সিরাপ এর ১০০ এম এল এর মূল্য ৫৫ টাকা এবং ২০০ এম এল এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা করে।  

Bicozin প্রয়োগে সতর্কতা

বিকোজিন সেবনের ক্ষেত্রে অল্প কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে।  অনেক ক্ষেত্রেই  বৃক্কের অকার্যকারিতার কারণে শরীরে জিংক এর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।  

তাই এই বিকোজিন ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে কারণ অতিরিক্ত জিংক এর পরিমাণ মানবদেহে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যান্য ঔষদের সাথে Bicozin এর  বিক্রিয়া

কিছু ভিন্ন মাত্রার ওষুধের সাথে বিকোজিন সিরাপ বা ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু বিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে যা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  যেমন আমরা টেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের অনেক  ঔষধ  সেবন করে থাকি।  এই গ্রুপের ওষুধের সাথে চীনের একটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় যা অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মানব দেহের সিরাম লেভেল কে কমিয়ে দেয়।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

বিকোজিন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু সর্তকতা মেনে চলতে হবে। যেমনঃ  ওষুধ থেকে অবশ্যই আদ্রতা থেকে দূরে রাখতে হবে।  যতদূর সম্ভব শুষ্ক এবং ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন।  যে কোন ঔষধ শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখতে হবে। 

শেষকথা

Bicozin ট্যাবলেট এবং সিরাপটি আপনার  শরীরের কয়েকটি ভিটামিনের অভাব পূরণ করে থাকে।  খুব সহজেই এই ওষুধের মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং জিংক  এর  অভাবকে সমতায় আনা সম্ভব। তাই,  ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে ওষুধ সতর্কতার সহিত সেবন করা বাঞ্চনীয়। 

আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লিক করুন!

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top