Maxpro 20

MAXPRO 20 ট্যাবলেট টি আপনার কখন দরকার হতে পারে? উপকারিতা সহ বিস্তারিত তথ্য!

Maxpro 20 মিঃ গ্রাঃ ট্যাবলেট হলো একপ্রকার ইনহিবিটর যা অপেক্ষাকৃত অধিক দ্রুত এসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। গ্যাষ্ট্রিক প্যারাইটাল কোষে অবস্থিত এনজাইম সিস্টেমের সাথে কোভালেন্ট বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়। তারপর এসিড নিঃসরণের প্রধান ধাপকে বাধাগ্রস্থ করে। 

এটি মূলত ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইনজেকশন এবং পাউডার আকারে পাওয়া যায়। আজকের লেখনীতে Maxpro 20 নিয়ে আমরা বিস্তারিত জানবো।

Maxpro 20 এর উপকারিতা

গ্যাস্ট্রিকজনিত বিভিন্ন চিকিৎসায় Maxpro 20 মিঃ গ্রাঃ সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিম্নবর্ণিত সৃষ্ট সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যায়:

  • গাস্টিক ও আলসারের চিকিৎসায় উপকারী। 
  • গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ এর চিকিৎসায়।
  • ইরোসিভ ইসোফেগাইটিসের প্রশমনে।
  • ইরোসিভ ইসোফেগাইটিস মেইনটেন্যান্স ডোজ হিসেবে।
  • গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স এর উপসর্গ প্রশমনে।
  • ইন-স্টেরয়ডাল ব্যাথারোধী ওষুধ দ্বারা চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট গ্যাষ্ট্রিক আলসার দূর হয়।
  • হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি দমনে।

Maxpro 20 ব্যবহারে সতর্কতা

ঔষধ ব্যবহারে নিজের মতকে প্রাধান্য না দিয়ে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ফলো করবেন সবসময়। এছাড়া বাড়তি কিছু সতর্কতা নিচে দেওয়া হলো:

  • Maxpro 20 মিঃ গ্রাঃ গ্যাস্ট্রিক আলসারে ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই গ্রহনের সক্ষমতা যাচাই করে নিতে হবে। তা না হলে ইসোনিক্স রোগের লক্ষণসমূহকে কমে গিয়ে রোগ নিরূপণে বিলম্ব ঘটাতে পারে। 
  • এন্টিবায়োটিকের সঙ্গে ব্যবহারের আগে ঔষধ নির্দেশনা দেখে নিতে হবে।
  • গর্ভবতী মহিলাদের উপর গবেষনায় Maxpro 20 এর উপাদানে ভ্রুনের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি। গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ গ্রহনে সতর্ক হতে হবে। 
  • Maxpro 20 শিশু রোগীদের ব্যবহারে নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা প্রমানিত হয়নি।    
  • হালকা থেকে মাঝারি হেপাটিক অপ্রতুলতাযুক্ত রোগীদের জন্য কোনও ডোজ গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয় না। তবে গুরুতর হেপাটিক সমস্যার রোগীদের মধ্যে একবারে ২০ মিলিগ্রাম  অতিক্রম করা উচিত নয়।    

Maxpro 20 এর মূল্য 

Maxpro 20 মিঃ গ্রাঃ ট্যাবলেট এর প্রতি পিসের মূল্য:  ৭.০০ টাকা। 

১৪০ পিস এর প্যাকেট: ৯৮০.০০ টাকা। 

Maxpro 20 এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Maxpro 20 খাবার খাওয়ার ৩০-৬০ মিনিট আগে গ্রহণ করা উচিত। ডোজ গ্রহনের মাত্রা এবং নিয়ম রোগের ধরণের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

ইরোসিভ ইসোফ্যাগিটিস নিরাময়ে: ২০ অথবা ৪০ মিঃ গ্রাঃ প্রতিদিন একবার চলমান থাকবে ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ। সম্পূর্ণভাবে এ নিরাময় কার্যকরী রাখতে ২০ মিঃ গ্রাঃ প্রতিদিন একবার সর্বোচ্চ ৬ মাস।

গ্যাস্ট্রোসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ: ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত দৈনিক একবার ২০ মিলিগ্রাম। যদি লক্ষণগুলো বাড়তে থাকে তবে অতিরিক্ত আরো ৪ সপ্তাহের চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে।

ডিওডেনাল আলসার: দৈনিক ২০ মিলিগ্রাম, ২-৮ সপ্তাহ টানা।

গ্যাস্ট্রিক আলসার: দৈনিক ২০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম, ৪-৬ সপ্তাহ নিয়ম মেনে গ্রহন করতে হবে।

১ থেকে ১১ বছর: ডাক্তারের অনুমতি সাপেক্ষে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত দৈনিক একবার সর্বেচ্চ ১০ মিলিগ্রাম।

১২ থেকে ১৭ বছর: ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত দৈনিক একবার ২০ থেকে ৪০ মিঃ গ্রাঃ।

ইনজেকশন সেবন-বিধি: আই ভি ইনজেকশন কমপক্ষে ৩ মিনিটের মধ্যে পুশ করা আবশ্যক। যদি ২০ মিলিগ্রাম নির্দেশ করা হয় তাহলে আই ভি ইনজেকশনের অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে। বাকি অংশ ১২ ঘন্টার মধ্যে ব্যবহার করা আবশ্যক এবং সর্বোচ্চ ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।

ইনজেকশন ব্যবহার বন্ধ: যদি রোগী Maxpro ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল খাওয়ার মত অবস্থায় থাকে তাহলে, ইরোসিভ এসোফ্যাগাইটিস (ইইই) রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক জিইআরডি রোগীদের চিকিৎসার জন্য Maxpro 20 আই ভি ইঞ্জেকশান এর ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

মিথস্ক্রিয়া বা অন্য ঔষধের সাথে বিক্রিয়া

ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন এর সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ইসমোপ্রাজলের ফেনাইটোইন, ওয়ারফারিন, কুইনিডিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন বা অ্যামোক্সিসিলিনের সাথে যৌথ চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য কোনও ইন্টারঅ্যাকশন নেই। 

ম্যাক্সপ্রো 20 মিঃ গ্রাঃ সাইটোক্রোম পি-৪৫০ মনো-অক্সিজেনেজ সিস্টেম এর কার্যকারিতা কমায়। সেজন্য দেহ থেকে বের হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

এসিড নিঃসরণ কমে যাওয়ায় ওমিপ্রাজল ব্যবহারে যেসব শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা যায়,  ম্যাক্সপ্রো 20 মিঃ গ্রাঃ এর ক্ষেত্রেও তা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে পাকস্থলী ও ডিওডেনামে ব্যাকটেরিয়ার কলোনাইজেশন ও ভিটামিন বি-১২ এর পরিশোষন ব্যাহত হতে পারে।

Maxpro 20 এর অপকারিতা

তীব্র ওভারডোজের পর নিউরোমাসকুলার হাইপারসেন্সিটিভিটি খিঁচুনি দেখা দেয়। ম্যাক্সপ্রো 20বা এই জাতীয় যেকোন উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়। ম্যাক্সপ্রো 20 মিঃ গ্রাঃ সেবনের ফলে মৃদু ও অস্থায়ী কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন:

  • মাথাব্যথা
  • ডায়রিয়া
  • বমি বমি ভাব
  • তলপেটে ব্যথা
  • কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি।

ম্যাক্সপ্রো 20 ডায়াজিপামের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডায়াজিপামের নিঃসরণ প্রক্রিয়া বিলম্ব হতে পারে। ইসোমিপ্রাজল জাতীয় এসব ঔষধ কিটোকোনাজল, ডিগোক্সিন এবং লৌহ জাতীয় ঔষধের শোষণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

যেহেতু ম্যাক্সপ্রো 20 সেন্সিটিভ রোগীদের জন্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে, তাই সেবন শুরু করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

শেষ কথা 

Maxpro 20 শুকনো জায়গায় ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের কম তাপমাত্রায় সংরক্ষন করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে নিরাপদে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত এসব গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ। সাধারণ চায়ের দোকানেও মাঝে মাঝে এসব ঔষধ বিক্রি করতে দেখা যায়। তাই আপনাদের প্রতি নির্দেশ থাকবে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ সেবন করুন। অনুমোদন প্রাপ্ত ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনুন।

আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লিক করুন!

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top