কিডনি ভালো রাখার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ উপায় জেনে নিন!

কিডনি ভালো রাখার উপায় – মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কিডনি। এটি মূলত আমাদের শরীরে ছাঁকনির কাজ করে। কিডনি রক্ত থেকে আমাদের শরীরের দূষিত পদার্থ বা বর্জ্য বাইরে বের করে দেয়। এবং এভাবেই এটি আমাদের শরীরকে সুস্থ ও কার্যক্ষম রাখে। 

কিডনি ভালো রাখার উপায়

তবে কিডনিই যদি সুস্থ স্বাভাবিক না থাকে তখনই হতে পারে নানা বিপত্তি। তাই আমাদের উচিত আগে থেকেই কিডনির যত্ন নেয়া এবং কিডনি ভালো রাখার উপায় জেনে সুস্থ খাদ্যাভাস তৈরী করা। তাহলে চলুন জেনে নি কীভাবে কিডনি সুস্থ রাখা যায়। 

কিডনি ভালো রাখার উপায়

কিডনি রোগের লক্ষনগুলো সাধারনত কিডনি পুরোপুরি বিকল হওয়ার পরে দেখা দেয়। তাই আগে থেকেই কিডনির যত্ন নিতে কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। এতে কিডনি রোগের মত জটিল সমস্যাকে সহজেই দূরে রাখা যায়। 

এটি আমাদের দেহের রক্তকে পরিশোধন করে শরীরকে অনেক রোগ থেকে বাঁচায়। তাই কিডনি যেন সুস্থ থাকে সেজন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো চলা উচিত। 

১) পরিমিত পানি পান:

প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করলে কিডনি ভালো থাকে। কেননা কিডনি আমাদের শরীরের দূষিত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। তাই প্রচুর পানি পান করলে এটি আরো কার্যক্ষম হয়।

এছাড়াও যখন ডায়রিয়া, বমি, অতিরিক্ত গরম বা রক্তপাতের ফলে শরীর থেকে লবন-পানি বের হয়ে যায় তখন এই পানিশুন্যতা পূরণ না হলে কিডনি বিকল হতে পারে। তাই শরীরে পানিশুন্যতা রোধ করতে পরিমিত পানি গ্রহণে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়। 

২) সঠিক খাদ্যাভাস:

অতিরিক্ত প্রানীজ আমিষ, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, লবনযুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে চাপ পড়ে। তাই এসব খাবার বাদ দিয়ে খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত নরম খাবার, শাকসবজি বেশি রাখতে হবে। 

৩) লবনযুক্ত খাদ্য পরিহার:

লবন আমাদের শরিরের জন্য উপকারি হলেও অতিরিক্ত লবন  কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বস্তুত, মানুষের শরীরে দৈনিক সামান্য পরিমাণে লবনের প্রয়োজন হয়। তাই অতিরিক্ত লবনযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। 

৪) কোমল পানীয় বর্জন:

আমরা অনেক সময় পিপাসায় পানির বদলে বিভিন্ন কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংস খেয়ে থাকি। এসব কোমল পানীয় কিডনি বিকলের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তাই কিডনি ভালো রাখার উপায় হিসেবে কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকস পরিহার করুন।  

৫) অতিরিক্ত ভিটামিন সি গ্রহন হতে বিরত থাকা:

শরীরের চাহিদার তুলনায় বেশি ভিটামিন সি গ্রহন করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ভিটামিন-সি যেন মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

৬) ওজন নিয়ন্ত্রন:

অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কেননা, অতিরিক্ত ওজনের কারণে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। তাই সঠিক খাদ্যাভাস বা ব্যায়াম এর মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন। 

৭) ধূমপান মদ্যপান বর্জন:

ধূমপান যে কিডনির জন্য ভয়াবহ বিপদ আনে তা আমরা সবাই জানি। ধূমপান বা মাদক গ্রহনের ফলে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে। তাই ধূমপান ও মদ্যপানের মতো বদঅভ্যাস থাকলে তা আজই ত্যাগ করুন। 

৮) উচ্চরক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন:

রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনি বিকলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যারা উচ্চরক্তচাপে ভোগেন তাদের উচিত এটি সবসময় স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করা এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানো। 

৯) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন:

দেখা যায় যাদের কিডনি সমস্যা থাকে তাদের বেশিরভাগই ডায়াবেটিস রোগী। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে না থাকলে কিডনি ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কিডনি ভালো রাখার উপায় হিসেবে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রনে রাখুন এবং সুষম খাদ্যাভাস গড়ে তুলুন। 

১০) ঔষধ সেবনে সতর্ক হোন:

ঔষধ জীবন রক্ষাকারী হলেও কম বেশি সব ঔষধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক, পেইনকিলার সাময়িক রোগের উপশম করলেও কিডনিকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার বা এই জাতীয় ঔষধ নিজে কিনে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

১১) নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম:

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম আপনাকে রাখতে পারে বিভিন্ন কঠিন রোগ সহ কিডনি ফেইলিওর বা ক্যান্সার থেকে মুক্ত। এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি কিডনি আরো কার্যক্ষম হবে। তাই দিনের কিছু সময় ব্যায়াম করে কাটান।

১২) নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করান:

উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেয়াটিকস, অতিরিক্ত ওজন  বা পরিবারের কারো কিডনি সমস্যা  থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অন্তত বছরে একবার হলেও প্রসাবের মাইক্রো-এলবুমিন পরীক্ষা করান। 

কিডনির সুস্থতায় সেসব খাবার খাবেন

উপরিউক্ত বিষয়গুলো মেনে চলার পাশাপাশি কিডনি ভালো রাখার উপায় হিসেবে কিছু খাবার দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন যা কিডনির জন্য উপকারী। যেসব খাবারে এন্টি -অক্সিডেন্ট রয়েছে, পঁচনরোধ কারী এবং শরীরে রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে সেসব খাবার নিয়মিত খেলে মিলবে কিডনি সমস্যা থেকে মুক্তি। 

এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাধাকপি, পেয়াজ, রসুন, লাল আঙুর, লাল ক্যাপসিকাম, মাছ, ডিমের সাদা অংশ, আপেল, অলিভ ওয়েল ইত্যাদি। পেয়াজ, রসুন, আপেলে রয়েছে প্রচুর এন্টি-অক্সিডেন্ট যা কিডনিকে আরো কার্যকর করে এবং সুরক্ষা দেয়। কিডনি রোগ থেকে মুক্তি পেতে অবশ্যই এ খাবার গুলো খাদ্যতালিকায় রাখুন।

কিডনির সুস্থতায় ব্যায়াম

ব্যায়াম যে শরীরের প্রত্যেকটা অংশের জন্য উপকারী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে যেকোন শারীরিক সমস্যা থেকে দূরে রাখবে।তেমনি কিডনি ভালো রাখার উপায় হল নিয়মিত ব্যায়াম করা।গবেষনায় দেখা যায় নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে তাদের কিডনি রোগে আক্রান্ত ঝুঁকি অনেক কম থাকে।তাই কিডনি ভাল রাখতে প্রতিদিন ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।

>> কিডনি রোগীর ঘরোয়া চিকিৎসা- লক্ষন, ঝুঁকি, প্রয়োজনীয় টেস্ট, মেডিসিন সহ বিস্তারিত!

উপসংহার

ইদানিংকালে কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকসময়ই দেখা যায় কিডনির পুরোপুরি কার্যক্ষমতা শেষ হওয়ার পর কিডনি রোগ সনাক্ত হচ্ছে। কিডনি রোগের লক্ষন আগে থেকেই প্রকাশ পাই না। ফলে রোগিদের ডায়ালাইসিস বা কৃত্রিমভাবে রক্তশোধনের ব্যবস্থা করতে হয়। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। 

তাই আগেই থেকে কিডনি ভাল রাখার উপায়গুলো মেনে চলুন এবং কিডনি ফেইলিউর বা ক্যান্সারের মত রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। আপনার সুস্থতা আমাদের সকলের কাম্য। 

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top