এলাচ এর উপকারিতা

এলাচ কেন খাবেন? এর উপকারিতা জেনে নিন!

সাধারণত সুগন্ধি মসলা হিসাবে বহুর প্রচলিত হলেও এলাচ এর উপকারিতা অনেক। এলাচে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম, দস্তা, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়ামের মত মিনারেলস্। এছাড়াও আছে অল্প পরিমান ভিটামিন সি, প্রোটিন, ডাযেটরি ফাইবার এবং ফ্যাটি অ্যাসিড। 

এলাচ এর উপকারিতা 

এলাচে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্টযুক্ত প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে যা দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক স্বাস্থ্যসুবিধা। আসুন বিস্তারিত জানি-

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট: 

এলাচে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট যা সংক্রামক জীবাণুগুলোকে বাঁধা দেয়, উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে নয়। পরীক্ষায় দেখা যায় এলাচ থেকে প্রাপ্ত তেলগুলি বিপদজনক জীনাণুগুলোর বৃদ্ধি ও বিস্তারকে বাঁধাগ্রস্ত করে।

হার্ট ভাল রাখে: 

এলাচ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা যায় প্রথম ধাপের হার্ট এর রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এলাচ কার্যকর। 

তাছাড়া ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিতে প্রকাশিত একটি প্রাণী গবেষণায় দেখা গেছে এলাচে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমগুলি উচ্চ ফ্যাটযু্ক্ত হওয়া সত্ত্বেও হার্টকে জারণ থেকে রক্ষা করতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

>> হার্টের রোগীর খাবার তালিকা । যেসব খাবার এড়ানো উচিত!

হজমে সহায়তা: 

হজমের সমস্যার প্রতিকার হিসাবে এলাচ ঐতিহ্যগতভাবে আয়ুর্বেদ, চীনা ঔষধ এবং ইউনানীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এলাচে থাকা মিথেনলিক এক্সট্রাক্ট অম্লতা, পেট ফাঁপা এবং পেটের ফোলা ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

সমীক্ষায় দেখা যায় এলাচ থেকে নিষ্কাশিত উদ্বায়ী দেলগুলি গ্যাস্ট্রিক আলসারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া এটিকে পাইলস্ এর জীবাণু হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি থেকেও রক্ষা করতে দেখা যায়।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ: 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় এলাচ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে। তবে এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। হজমের এনজাইমগুলোকে প্রতিরোধেরে মাধ্যমে এলাচের উপাদানগুলো রক্তের গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

>> ডায়াবেটিস হলে কি করণীয়, ডায়াবেটিস কমানোর উপায় জেনে নিন!

ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে:

থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণগুলির জন্য এটি মুখের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ডেন্টাল কেরিজ থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে। তাছাড়া এলাচের বীজগুলি মুখে নিয়ে সতেজ শ্বাস অনুভক করতে পারবেন খুব সহজেই।

এলাচ এর উপকারিতা

লিভার ভাল রাখে: 

গবেষণায় জানা যায় লিভার সুরক্ষায় এলাচ এর উপকারিতা অনেক। এর নির্যাসগুলো লিভারের রোগের ঝুঁকি কমায় এবং টেস্টামাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা সৃষ্ট বিষাক্ততা বা ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করতে সহায়তা করে।

>> লিভার ভালো রাখার উপায় সমূহ জেনে নিন!

শ্বাস প্রশ্বাসের উন্নতি: 

এলাচ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। পরীক্ষায় দেখা যায় ব্যায়ামের সময় রক্ত সঞ্চালন এবং অক্সিজিন গ্রহনের পরিমান বাড়ানোতে এলাচ অত্যন্ত কার্যকর।

বমিভাব দূর করে: 

ঐতিহ্যগতভাবে এলাচ বমিভাবের প্রতিকার হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বমি করার টেনডেন্সি কমাতে সক্ষম হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ প্রিভেনটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা যায় গর্ভাবস্তায় বমিভাব এবং এর তীব্রতা হ্রাস করার জন্য এলাচগুড়া বিশেষ উপকারী।

সাবধানতা

যদিও এলাচ এর উপকারিতা অনেক, তারপরেও যেহেতু এলাচ একটি মসলা তাই এটি আপনার খাবারে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে। এটি বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং গবেষকরা খুব কম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুঁজে পেয়েছেন। 

>> এলাচ চাষ পদ্ধতি ও এর উপকারিতা সহ বিস্তারিত জেনে নিন।

অতিরিক্ত এলাচ গ্রহনের ফলে ডায়রিয়া, ত্বকের প্রদাহ, জিহ্বায় প্রদাহ (গ্লসাইটিস) হতে পারে। এলাচের আসলে কোন প্রস্তাবিত ডোজ নেই, তাই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি না খাওয়া ভাল। তবে গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের কোনভাবেই অতিরিক্ত এলাচ খাওয়া উঁচিত নয়।

শেষ কথা

এলাচ এর উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেরই হয়ত পরিস্কার ধারণা ছিল না। এটি প্রাকৃতিক এবং খুবই নিরাপদ একটি মসলা। উপরে উল্লেখিত সুবিধাগুলো ছাড়াও এলাচের আরো অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে যেমন ওজন কমাতে সহায়তা, গলা ব্যথা, মুত্রথলির সমস্যার প্রতিকার, মানসিক প্রশান্তি, প্রদাহ রোধ করা ইত্যাদি।

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top