মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায়

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায় জেনে নিন!

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায় জানা থাকা সবার জন্য জরুরী, কারণ এটি একটি অস্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা এবং পরিবারের যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত পায়খানার সাথে বা আলাদাভাবে পায়ু পথে দিয়ে রক্ত ঝরলে বিষয়টি কোনভাবেই অবহেলা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

এটি নিজেই কোন রোগ নয় বরং অন্য রোগের উপসর্গ মাত্র, যার কারণ সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে অনেকসময় ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগ হতে পারে। 

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ

পাইলস বা হেমরয়েড বা অর্শ রোগের কারণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার মতো ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমদিকে পায়খানার সাথে টাটকা রক্ত পড়তে পারে যা পরবর্তীতে জমাট রক্তপিন্ড আকারে বের হয়।

পাইলস ছাড়াও আরো অনেক কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, যেমন- এনাল ফিসার, রেক্টাল পলিপ, রেক্টামে ক্যান্সার, রেক্টাল ফিস্টুলা, আলসার, আঘাতজনিত কারণ ইত্যাদি।

>>ইসবগুল ও তোকমা দানা খাওয়ার সঠিক নিয়ম জেনে নিন!

চিকিৎসা

এর চিকিৎসা নির্ভর করে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ এবং রক্ত পড়ার উৎসের উপর ভিত্তি করে। রোগী অতিরিক্ত রক্ত ঝরার ফলে বেশি অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন বা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এর তত্ত্ববধানে রোগীর চিকিৎসা হয়ে থাকে। 

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায়

উপযুক্ত চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করার মাধ্যমে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায় করা সম্ভব। যেমন-

  • গোসলের সময় নিয়মিত মলদ্বার ও এর চারপাশের ত্বক ভালমত পরিস্কার করুন।
  • দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
  • পায়খানা করার সময় অতিরিক্ত চাঁপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • বাথরুমে খুব বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না।
  • খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবার নিয়মিত রাখুন।
  • ব্যথা কমাতে আক্রান্ত স্থানে আইসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
  • একটি বোলে উষ্ণ পানি নিয়ে তাতে সামান্য লবণ মিশিয়ে এর মধ্যে নিতম্ব ডুবিয়ে অন্তত ১০ মিনিট বসে থাকলে চুলকানি, ব্যথা এবং অস্বস্তি কমে যাবে। এটাকে সিজ বাথ বলে।
  • অ্যালকোহল পান করা এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করে। যা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ।

>> পাইলস কি? এর লক্ষণ ও ঘরোয়া চিকিৎসা সহ বিস্তারিত জানুন!

এগুলো ছাড়াও ঔষধের দোকানে কিছু রেকটাল মলম এবং সাপোজিটরি পাওয়া যেগুলোর জন্য কোন প্রেসক্রিপশন এর প্রয়োজন পড়ে না, এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি লক্ষণগুলোর উন্নতি না হয় এবং রোগীর বয়স ৪০ বছর এর চেয়ে বেশি হয় তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

শেষ কথা

এই ধরণের সমস্যায় পড়লে অনেকেই সেটা প্রকাশ করতে চায় না, আবার মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কেও পরিস্কার ধারণা থাকে না। যে কারণে সমস্যাটি একসময় জটিল আকার ধারণ করে। কিন্তু প্রথম থেকেই সচেতন হলে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top