আমের উপকারিতা

আম খেলে কি হয়? আমের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ জেনে নিন!

আমের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ – আম খেতে কে না পছন্দ করে? আম অতি সুস্বাদু ও পরিচিত একটি ফল। বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ মাসে আমাদের দেশে আম পাকে। ছোট থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সের  মানুষের কাছে আম অত্যন্ত পছন্দের । অন্য সব ফলের তুলনায় আম অতি সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি হওয়াই যেকোনো মানুষই আম অনেক ভালোবাসে। 

গ্রীষ্মের ছুটি মানেই যেন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে গাছে উঠে আম পেড়ে খাওয়ার এক অনাবিল আনন্দ।  ছোটবেলার এই স্মৃতিগুলোই আমাদের কাছে অনেক মধুর। 

উপরের কথাগুলি শুনে আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন যে আজকে আমরা কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি। তাই আর দেরি না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক আমের উপকারিতা এবং গুণাগুণ। 

আমের পুষ্টিগুণ – 

আমে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ । যেমনঃ- উচ্চমাত্রায় প্রোটিন, ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলিক এসিড,  ভিটামিন-সি, ভিটামিন- কে, কপার,  বিটা ক্যারোটিন ইত্যাদি। 

অতএব, এটি যেমন একটি সুস্বাদু ফল তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই, আমের পুষ্টিগুণ বিবেচনায় আপনি নিঃসন্দেহে যতখুশি আম খেতে পারেন। 

আমের উপকারিতা

আমের উপকারিতা –

আম খেলে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ফলে বিভিন্ন  স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমে যায়। গবেষণায় প্রমাণিত আম খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা,  স্থুলতা  দূরে থাকে। এছাড়াও হাড়, হজমশক্তি, দেহের শক্তি বৃদ্ধি, ইত্যাদি গঠনে আম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  আমে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্তন, কোলন, ও প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এছাড়াও আরো কিছু আমের উপকারিতা নীচে ক্রমান্বয়ে তুলে ধরা হলো:

  • আম মানুষের দেহে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। 
  • আমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। যা জীবাণু ধ্বংশ করে এবং দেহকে সুরক্ষিত রাখে। 
  • আম অবসাদ, ও ক্লান্তি দূর করে এবং পুরুষদের যৌনশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। 
  • আপনি যদি ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন তবে কাচা আম খেতে পারেন। কারণ কাচা আমে শর্করার পরিমাণ কম থাকে যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। 
  • দেহের শক্তি বাড়াতে কাচা আম খুবই উপকারি। এবং বিশেষজ্ঞদের মতে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর কাচা আম খেলে বিকালের তন্দ্রাভাব কেটে যায়। 
  • মানুষের শরীরে নতুন রক্ত তৈরি করতে সহায়তা করে আম।
  • দেহে আয়রন ও সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে আম। 
  • যেসকল মানুষেরা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন তারা আম খেতে পারেন। কারণ আম বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করে। 
  • পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে আম। 
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় কাঁচা আম। 
  • আম রুপচর্চায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। রোদের কালোভাব, ত্বকের দাগ, ও ব্রণের সমস্যা দূর করে আম। 
  • কাচা আম মুখের মাড়ি গঠনেও সাহায্য করে।  

আমের উপকারিতা অনেক। আমাদের দেহের প্রায় সকল ক্ষতি পূরণে আম বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই এটি আপনার পছন্দের ফল হিসেবে প্রশংসনীয়।  

শেষ কথা –

আম আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটা ফল।  আমের উপকারিতাও অনেক। আম পছন্দ করে না এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমে রয়েছে প্রচুর  পুষ্টিগুণাগুণ। বলতে গেলে, আম প্রায় সকল প্রকার রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

তবে যেকোনো কিছু অধিক পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিয়ম মেনে খেলে আপনি এর সুফল পাবেন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top