কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সমূহ জানুন!

কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা : আমাদের দেশে দিন দিন কোয়েল পাখির ডিম এর জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই জনপ্রিয়তাকে ঘিরে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অসংখ্য কোয়েল পাখির খামার। 

মূলত কোয়েল পাখির ডিম খেলে শরীরে সব ধরণের পুষ্টির অভাব দূর হয় ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কোয়েল পাখির ডিম সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।

ভিডিওঃ কোয়েল পাখির ডিমের ক্ষতিকর দিক সমূহ

কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

কোয়েল পাখির ডিম খুবই ছোট প্রকৃতির হয়ে থাকে। একটি কোয়েল পাখির ডিম আনুমানিক  ৯ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। সাধারণত একটি মুরগি বা হাঁসের ডিম ৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। পরিমাণের দিক দিয়ে ৫টি কোয়েলের ডিম একটি মুরগির বা হাঁসের ডিমের সমপরিমাণ হয়ে থাকে। 

আকারে ছোট হলেও এর পুষ্টি উপাদানের কমতি নেই। চলুন একনজর দেখে নিই। 

পুষ্টি উপাদান

  • ক্যালরি: ১৪ 
  • ফ্যাট: ১ গ্রাম 
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড: ৪ মিলিগ্রাম 
  • ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড: ৮৪ মিলিগ্রাম
  • প্রোটিন: ১.২ গ্রাম
  • কোলেস্টেরল: ৭৬ মিলিগ্রাম 
  • ভিটামিন ও মিনারেল 
  • ভিটামিন এ: ১%
  • রিবোফ্লাভিন: ৪% 
  • ভিটামিন বি১২: ২%
  • প্যানথোনিক এসিড: ২%    
  • আয়রন: ২% 
  • সেলেনিয়াম: ৪% 
  • ফসসরাস:২%

কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

  1. কোয়েল পাখির ডিমে রয়েছে প্রোটিন ও আয়রন, যা শরীরের এনার্জি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  1. এতে আরো আছে সেলেনিয়াম যা  প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  1. কোয়েল পাখির ডিমে বিদ্যমান ভিটামিন বি-২ আমাদের লিভার, চুল ও চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করে।  
  1. এছাড়াও এতে রয়েছে রিবোফ্লাভিন যা শরীরের লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  1. কোয়েল পাখির ডিম শরীরের পাকস্থলির সমস্যা দূর করে থাকে। চাইনিজরা কোয়েলের ডিমকে টিবি, অ্যাজমা এবং ডায়াবেটিস রোগীর ঔষধ  হিসেবে ব্যবহার করে।

কোয়েল পাখির ডিম শিশুদের জন্য কতটা উপকারি

বাচ্চাদের জন্য কোয়েল পাখির ডিম নিরাপদ। বাচ্চার বয়স ৮ মাস হলে এই ডিম খাওয়ানো যায়। কোয়েল পাখির ডিমে কোলেস্টেরল রয়েছে ১.৪% এবং প্রোটিনের পরিমাণ মুরগি বা হাঁসের  ডিম থেকে প্রায় শতকরা ৭ ভাগ বেশি। তাই প্রতিটি শিশুর দেহের প্রোটিনের চাহিদা কোয়েল পাখির ডিম থেকে অনায়াসেই পাওয়া যায়। বয়সভেদে ডিমের ১১টি উপকারিতা!

অনেক বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক এবং বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি দেখা যায়।  কোয়েলের ডিম এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে । দুর্বল বাচ্চা ও বৃদ্ধরা প্রতিদিন তিন/চারটা করে কোয়েলের ডিম খেতে পারেন। কোয়েল পাখির ডিম বাচ্চাদের শারীরিক মানসিক ও দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

কোয়েল পাখির ডিমের ক্ষতিকর দিক

অসংখ্য উপকারিতার মাঝেও কোয়েল পাখির ডিমের ক্ষতিকর কিছু দিক রয়েছে । চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ক্ষতিকর দিক গুলো। 

কোলেস্টেরল এর সমস্যা বাড়ায়

কোয়েলের ১০০গ্রাম ডিমে থাকে ৮৪৪গ্রাম কোলেস্টেরল। যা অন্যান্য ডিম থেকে অনেক বেশি। তাই যাদের কোলেস্টেরল এর সমস্যা বেশি তাদের উচিত এই ডিমের অতিরিক্ত খাওয়া পরিহার করা। কোলেস্টেরল কি ? কোলেস্টেরল কমানোর খাদ্য তালিকা সহ বিস্তারিত জেনে নিন!

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের সমস্যার কারণ

যারা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগী আছেন তাদের যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে তাহলে তাদের ক্ষেত্রে কোয়েলের ডিম এড়িয়ে চলা উচিত। কেননা এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট মজুদ রয়েছে । এই ফ্যাট ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের সমস্যার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস হলে কি করণীয়, ডায়াবেটিস কমানোর উপায় জেনে নিন!

শেষকথা

আমাদের দেহের জন্য কোয়েল পাখির ডিম কেন প্রয়োজন? আশাকরি  উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তা আমরা জানতে পেরেছি। দেহের পুষ্টিগুণ ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কোয়েল পাখির ডিমের কোনো বিকল্প নেই। কোয়েল পাখির ডিমের ৭টি উপকারিতা জেনে নিন!

আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে করুন!

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top