তোকমা দানার উপকারিতা

তোকমা দানার উপকারিতা – কেন এটি খাওয়া উচিত জেনে নিন!

তোকমা দানার উপকারিতা বিষয়ে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে বলবে- তোকমা দানা খুবই উপকারি, নিয়মিত খাওয়া উঁচিৎ। কিন্তু ঠিক কি কি উপকার করে এটা হয়ত অনেকেই বলতে পারবে না। কারণ এর সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারনা সবার নেই। আসুন এর উপকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি-

তোকমা দানার উপকারিতা

এতে প্রায় ৪২% কার্বোহাইড্রেট, ২০% প্রোটিন এবং প্রায় ২৫% ফ্যাট রয়েছে। তোকমা দানায় থাকা উচ্চ পরিমাণের ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই।

সঠিক নিয়মে খেতে পারলে তোকমা দানার উপকারিতা অনেক। এর কিছু প্রধান স্বাস্থ্য সুবিধা নীচে আলোচনা করা হলো।

কোষ্ঠকাঠিন্য: 

এটি খুব কমন একটি সমস্যা, অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে তোকমা দানা খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এর উচ্চমানের ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। 

এক্ষেত্রে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুধের সাথে মিশিয়ে তোকমা দানা খেতে পারলে সবচেয়ে ভাল হয়।

তোকমা দানার উপকারিতা

ক্ষুধা নিবারন: 

অতিরিক্ত ওজন অনেকের জন্য খুব বড় একটি সমস্যা এবং এটা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ অনেক কিছু করে থাকে। তোকমা দানা ক্ষুধা নিবারনকারী হিসাবে কাজ করে। এটি খাওয়ার পর মানুষ কম ক্ষুধা অনুভব করে এবং এটি কম ক্যালোরিযুক্ত ও উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ। 

যে কারণ ন্যাচারালি ওজন কমতে থাকে। তাছাড়া এতে উপস্থিত এএলএ অ্যাসিড শরীরে জমে থাকা ফ্যাট পোড়াতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে তোকমা দানা সকালের নাস্তায় দই বা ফলের সাথে খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: 

যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা নিয়মিত তোকমা দানা খেতে পারেন। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তোকমা দানা পানিতে ভালমত ভিজেয়ে দুধের সাথে মিশিয়ে চিনি ছাড়া খেতে পারেন। 

এটি শুধু ডায়াবেটিসই নিয়ন্ত্রণ করবে না, পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকার কারণে শরীরকে সুস্থ্য রাখতে সহায়তা করবে।

শরীর শীতল রাখে: 

তোকমা দানার উপকারিতা গুলোর অন্যতম হলো এটি শরীরকে শীতল রাখে। বিশেষভাবে গরমের সময় তোকমা দানা খেলে এটি শরীরের তাপ শোষণ করে এবং শরীরকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।

এসিডিটি এবং জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমায়: 

অ্যাসিডিটি ও জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমাতে তোকমার দানা খুবই কার্যকর। এটি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড এর ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেটের মিউকাস লেয়ারকে প্রশস্ত করে। 

চা, কফি বা কোমল পানীয় খাওয়ার পরিবর্তে দুধের সাথে মিশিয়ে তোকমা খেলে পেটের জ্বালাপোড়া থেকে তাৎক্ষণিক উপশম পাবেন।

ত্বকের ইনফেক্শন: 

তোকমা দানার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য ত্বকের ইনফেক্শন চিকিৎসায় সহায়তা করে। সিরোসিস, একজিমা এবং অন্যান্য চর্মরোগের চিকিৎসায় চুড়ান্ত উপকারী বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। 

কেউ স্কিন অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হলে তোকমা দানা গুড়া করে হালকা গরম নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

>> ত্বকের যত্নে আরো বিস্তারিত জানুন!

স্বাস্থ্যকর ও ঝলমলে চুল: 

উচ্চ পরিমান ভিটামিন, বিশেষত ভিটামিন K থাকার কারণে মাথার ত্বক ও চুলকে সুস্থ এবং ঝলমলে করে তোলে। তাছাড়া উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন এবং আয়রনের কারণে মাথায় চুলের পরিমান বৃদ্ধি পায়। 

>> চুলের যত্নে আরো বিস্তারিত জানুন!

কাশি থেকে মুক্তি: 

তোকমার বীজে অ্যান্টিস্পাজ্মোডিকি বৈশিষ্ট রয়েছে, যে কারণে এটি ফুসফুস এর পেশীগুলোকে শিথিল করার মাধ্যমে কাশি থেকে মুক্তি দেয়। তাছাড়া এটি অন্যান্য ফ্লু, সর্দি এবং কাশি প্রশমিত করতে সহায়তা করে। 

হজমে সহায়তা:

তোকমা দানা হজমে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি বদহজম, পেট ফাঁপা, পেট ফোলা ভাব এবং আরো অনেক কিছুতে স্বস্তি দেয়। 

ক্যান্সার প্রতিরোধ: 

তোকমা দানাতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে উৎপাদিত ফ্রি র‌্যাডিক্যাল গুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়ার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

শেষ কথা

উপরে বর্ণিত সুবিধাগুলো ছড়াও তোকমা দানার উপকারিতা আরো অনেক বেশি। যেমন এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রক্তস্বল্পতা থেকে মুক্তি দেয়, মুখের আলসার থেকে নিরাময়, উত্তেজনা প্রসমন করা সহ অনেক উপকার করে থাকে। নিয়মিত তোকমা দানা খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরকে ফিট রাখতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top