বার্সার পুনরুত্থানের ম্যাচে

বার্সার পুনরুত্থানের ম্যাচে রিয়ালের জয়!

শেষ কবে বার্সেলোনা এমন খেলেছে তা বের করতে হলে অবশ্যই খাতা কলম নিয়ে বসতে হবে । অন্তত মেসি যাওয়ার পর এরকম খেলা বার্সা দেখাতে পারেনি। 

ম্যাচের আগে থেকেই কাগজে-কলমে সব দিক দিয়েই এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবুও বার্সার সমর্থকরা আশায় বুক বেধেঁছিলেন, জাভির হাতে হয়তো সৌদি আরবের মরুর ধূসর বুকে ফুল ফুটবে!

কিং ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালের মুহুর্মুহ আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত ছিল বার্সার ডিফেন্স। খেলা গুছিয়ে ওঠার আগেই ভিনিসিয়াসের ২৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। খেলার ৪১ তম মিনিটে ডি জং এর গোলে ম্যাচে সমতা আনে বার্সা। ম্যাচে সমতা নিয়েই প্রথম হাফ শেষ করে দুই দল। 

বিরতির পর ছন্দবিহীন খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাভির ‘টিকিটাকা’ ট্যাক্টিস প্রয়োগ করে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সা। একের পর এক শটে ব্যস্ত রাখে রিয়ালের ডিফেন্সকে। ছোট ছোট পাসে মধ্যমাঠ ছিল বার্সার নিয়ন্ত্রণে।  তবে ৭২ মিনিটে বেনজেমার দর্শনীয় এক গোলে আবারও লিড পায় রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সার উদীয়মান তারকা আনসু ফাতির ৮৩ তম মিনিটে গোলে খেলায় আবার সমতা ফেরায় বার্সা। দাঁতে দাঁত চেপে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যায় দুই দল। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

ফুটবলের আরও খবর পড়ুন

অতিরিক্ত সময়ের ৮ মিনিটে, ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে উরুগুইয়ান তরুণ মিডফিল্ডার ফেডে ভালভার্দের দূর্দান্ত এক গোলে ম্যাচের জয়সূচক গোল করে রিয়াল মাদ্রিদ। এসিস্ট করেন ব্রাজিলিয়ান উইংগার রদ্রিগো গোয়েস। রদ্রিগোর বাড়িয়ে দেয়া বলে বার্সার গোলবারের প্রহরী মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগানকে বোকা বানিয়ে গোল করেন ভালভার্দে। 

ম্যাচের বাকি সময়ে আরও কিছু আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ হলেও দুই দলের কেউই গোল করতে পারেনি। ফলাফল স্বরুপ এল ক্লাসিকোর জয় টানা পঞ্চম বারের মত নিজেদের করে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ। সেই সাথে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে উঠে গেল তারা। ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে এতলেটিকো মাদ্রিদ-এতলেটিকো বিলবাও ম্যাচের বিজয়ীর সাথে।

গেল কয়েক মাস ধরেই ছন্দহীন খেলতে থাকা বার্সা উড়তে থাকা রিয়ালের সাথে সমানে সমান লড়াই করবে এমনটা হয়তো খোদ জাভিও ভাবেননি। ম্যাচের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল বার্সা। রিয়াল মাদ্রিদের নেয়া ১৪ টি শটের বিরুদ্ধে বার্সা শট নিয়েছে ২০ টি। যদিও মাত্র ৬ টি শট ছিল অন টার্গেট। বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিল বার্সেলোনাই। পুরা ম্যাচে ৫৪% সময় বল দখলে রেখেছিলো তারা। যার মাঝে ৮৮% পাসিং এক্যুরেসির সাথে পাস দিয়েছে ৭০৪ টি।

এশিয়ার মাটিতে মেসি-রোনালদোবিহীন এল ক্লাসিকো জৌলুস ছড়িয়েছে বেশ ভালোভাবেই। একপেশে লড়াইয়ের আশা করা দর্শকরা দেখেছে দুই দলের সমানে সমানে লড়াই। জয়ের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের দর্শকরা আনন্দের উপলক্ষ্য পেলেও বার্সার সমর্থকরা এই আশাই করতে পারে ভবিষ্যতে বার্সা এরকম গুছিয়ে ফুটবল খেলা উপহার দিবে। যা বার্সার কিউলদের জন্য দারুণ স্বস্তিদায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top