ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন – ইতিহাস সহ বিস্তারিত জানুন!

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন – শীতের মৌসুমে ব্যাডমিন্টন খেলা খুব পরিচিত একটি চিত্র। শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গাতেই দেখা যায় ব্যাডমিন্টন খেলার জনপ্রিয়তা। 

সারা বিশ্বে এই খেলার রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। প্রায় সব বয়সী মানুষ দের ব্যাডমিন্টন খেলতে দেখা যায়। ছেলে-মেয়ে উভয়ের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য কোন বৈষম্যতা না থাকার কারণে উভয়ের মধ্যেই এই খেলাটির জনপ্রিয়তা দেখা যায়। ১৮৭৩ সালে ইংল্যান্ডের গ্লুচেষ্টারশায়ার রাজ্যে ব্যাডমিন্টন গ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলার আবির্ভাব ঘটে। ধীরে ধীরে এই খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ে এবং দর্শকরা খুব আনন্দ সহকারে এই খেলা উপভোগ করতে শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাডমিন্টনের  জনপ্রিয়তা।

ব্যাডমিন্টের প্রতি চাহিদার এমন অগ্রগতি দেখে ১৮৯৩ সালে ব্যাডমিন্টন এসোশিয়েশন গঠন করা হয়। প্রায় অনেকেই ব্যাডমিন্টন নিয়ম কানুন ছাড়া খেললেও ব্যাডমিন্টনের রয়েছে বেশ কিছু নিয়ম কানুন।  এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা আপনাদের জানাব ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন।

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন

১৯৩৮ সালে ব্যাডমিন্টন খেলার প্রথম নিয়ম ধার্য করা হয়। এরপর সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন নিয়মে পরিবর্তনের কারণে ১৯৮৩ সালে ব্যাডমিন্টন খেলার সঠিক এবং চূড়ান্ত নিয়মের পূর্ণতা লাভ করে। 

কোর্টঃ 

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন এর সর্ব প্রথম বিষয়টি হল কোর্ট ।ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট কোর্ট ধার্য করা। এই কোর্টটি আয়তাকার হয়ে থাকে।    

একক ম্যাচ

  • প্রস্থঃ ১৭ফুট
  • দৈর্ঘ্যঃ৪৪ ফুট
  • দৈর্ঘ্যকে দুটি সমান ভাগে (২২ফিট) ভাগ করা হয়

দ্বৈত ম্যাচ

  • প্রস্থঃ ২০ ফুট
  • দৈর্ঘ্যঃ৪৪ ফুট
  • সহজভাবে পথক করার জন্য সাদা বা হলুদ রঙ দিয়ে রেখা কাটতে হবে
  • নেটের উচ্চতাঃ ৫ ফুট এক ইঞ্চি

প্রজ্বলনঃ

সন্ধ্যার পর খেলার জন্য পর্যাপ্ত আলো দরকার। সেক্ষেত্রে বাল্ব কিনে পুরো কোর্ট আলোকিত করতে বিভিন্ন পয়েন্টে সেট করতে পারেন। তবে বৈদ্যুতিন সংযোগগুলির জন্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।

জাল

  • কালো বা রঙিন দড়ি দিয়ে তৈরি করতে হবে
  • জালের উচ্চতা হতে হবে ২.৫ ফুট
  • জালের প্রস্থ হতে হবে ২০ ফুট
  • সাদা টেপ দিয়ে জালের উপরের প্রান্ত এঁটে দিতে হবে। 
  • নেট এবং দন্ডের শেষ প্রান্তে কোন শূন্য জায়গা থাকবে না

দন্ড

এটি একটি কুটি হিসেবে কাজ করেব্যাডমিন্টন কোর্টে নেট সংবদ্ধ রাখতে এটি ব্যবহৃত করা হয়। 

দন্ডের উচ্চতাঃ ১.৫৫ মিটার

দন্ডের প্রশস্তঃ ৪০ মিটার

শাটল (SHUTTLE)

ক্রিকেটের জন্য যেমন বল প্রয়োজন ঠিক তেমনি ব্যাডমিন্টনের জন্য শাটল হল ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন এর অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বস্তু। গোলাকার বলের মতো এই জিনিসটি যা প্রাকৃতিক কিংবা নানা বস্তু দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি এবং র‍্যাকেট দিয়ে মুলত ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। শাটলের মধ্যে রয়েছে পাখির পাখার মতো কিছু পালক যা কর্কটিকে সহজে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে। শাটলের ওজন ৪.৭৪ থেকে ৫.৫০ গ্রাম মধ্যে হয়ে থাকে।

র‍্যাকেট (Racket)

ব্যাটের মতো কাজ করে এমন বস্তু যা দ্বারা কর্ককে আঘাত করা হয়। র‍্যাকেটের উপ্রিভাগ সমতল হয়ে থাকে। র‌্যাকেটের দৈর্ঘ্য হবে ৬৮ সেঃমিঃ এবং প্রস্থ হবে ২৩ সেঃমি। কোন কিছু জেন আটকে না যায় সেজন্য র‍্যাকেটটি বহি প্রসারণ থেকে মুক্ত রাকা প্রয়োজন। 

ব্যাডমিন্টন খেলার ৫ টি নিয়ম রয়েছে:

২ জন মহিলা খেলোয়াড় একটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করলে সেটি হবে মহিলা একক। একইভাবে ২ জন পুরুষ  খেলোয়াড় একটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করলে সেটি হবে পুরুষ  একক।

অন্যদিকে যদি ৪টি মহিলা ব্যাডমিন্টন ম্যাচ খেলে সে ক্ষেত্রে সেই ম্যাচটি হবে মহিলা দ্বৈত এবং যদি ৪টি পুরুষ  ব্যাডমিন্টন ম্যাচ খেলে সে ক্ষেত্রে সেই ম্যাচটি হবে পুরুষ দ্বৈত 

সর্বশেষে যদি উভয় মহিলা এবং পুরুষ একত্রিত হয়ে একটি ম্যাচ খেলে সে ক্ষেত্রে সেই ম্যাচটি হবে মিশ্র ম্যাচ।

টসঃ 

দু’পক্ষের মধ্যে খেলা শুরু হওয়ার আগে টস হবে। সাধারণ ভাবে এই ধাপটি বাদ দেয়া হলেও ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন এর অতি গুরুত্তপূর্ণ একটি বিষয় এটি। যে দল টসে জিতবে তারা 

  • আগে সার্ভিস করার সুযোগ পাবে 
  • কোন সাইডে তারা খেলবে তা নির্ধারণ করতে পারবে 
পয়েন্টস
  • একটি ম্যাচে ২১ পয়েন্টের ৩ টি গেম থাকে
  • র‌্যালি জয়ী দলের স্কোরে একটি পয়েন্ট যোগ করা হয়
  • ১৫ পয়েন্টের গেম সফল হবে,  যদি পয়েন্ট ১৩ সমান সমান হয়
  • যে দল প্রথমে ১৩ স্কোর করবে তাদের ৫ পর্যন্ত সেটিং করার সুযোগ থাকবে
  • উভয় পক্ষের সমান পয়েন্ট হলে ৩ পর্যন্ত সেটিং করার সুযোগ থাকবে
  • দ্বৈত ম্যাচের সময় প্রথম সার্ভিসের জন্য ডানদিকের খেলোয়াড় কোনাকুনি বিপক্ষের কোর্টের মধ্যে  সার্ভিস করবে
  • যাকে সার্ভিস করা হবে কেবলমাত্র সেই খেলোয়াড় সার্ভিস গ্রহণ করবে
  •  কোনো খেলোয়াড় পরপর দুইবার বা তার বেশি  সার্ভিস করতে পারবে না

র‍্যাকেট ধরা ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন এর একটি অপরিহার্য দিক। র‍্যাকেট ধরাকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। খেলোয়াড়দের শেখার জন্য ফোরহ্যান্ড পদ্ধতিটি সহজ এবং এর ফলে প্লেয়ারের পছন্দের শটে পরিণত হওয়ার প্রবণতা থাকে।অন্যদিকে ব্যাকহ্যান্ড পদ্ধতি হল যারা দক্ষ খেলোয়াড় তাদের জন্য। 

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন এর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দিক পরিবর্তন করা। প্রতিটি পয়েন্টের পর উভয় দিকের খোলোয়ার সার্ভিস কোর্ট বদল করতে হবে।

অনেক সময় ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন এর মধ্যে ব্যঘাত ঘটে যখন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানা হয় না। বিভিন্ন ধরনের ভুল সার্ভিস যেমন প্রাথমিক সংযুক্তি শাটলের তলায় আঘাত না করা, সার্ভিসের সময় যদি শাটল নেটের উপর দিয়ে না যেয়ে বা শর্ট সার্ভিস লাইনের বাইরে পড়ে, সেক্ষেত্রে এইসব কিছু ভুল সার্ভিস হিসেবে বিবেচিত হবে। আশা করছি আমাদের আর্টিকেল থেকে ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম কানুন সম্পরকে পূর্ণ ধারনা নিয়ে এই শীতে সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যাডমিন্টন খেলা উপভোগ করবেন।

লেখেছেনঃ ওয়াহিদা পারভিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *