আপেল এর 14টি উপকারিতা

আপেল খাওয়ার ১৪টি উপকারিতা ও অপকারিতা পুষ্টিগুণ সহ জানুন!

crickex banner ad

আপেল এর উপকারিতা আছে- এমনটা আমরা সবাই জানি। তবে কী কী উপকারিতা আছে তা হয়তো জানি না। তবে আজকের লেখাটি পড়লে নিশ্চয় আপেলের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হবেন। 

মূলত আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি। এছাড়াও মিনারেল, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার এতে বিদ্যমান। এগুলো আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। এবং এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 

আপেলে আরো নানাকিছু বৈশিষ্ট্য আছে। লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়লে সেসব সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াও আপেল খাওয়ার সময় ও এর কিছু অপকারিতা নিয়ে নীচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

আপেল এর উপকারিতা – Health Tips Bangla

প্রতিনিয়ত আপেল খাওয়ার ফলে শরীরের দুর্বলতা, বদহজম এবং শ্বাসকষ্ট দূর হয়। এছাড়া আপেলে থাকা ফাইবার দাঁতের রোগ, বাত, ও রক্তশূন্যতা দূর করে। আপেল এর উপকারিতা সম্পর্কে নীচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

আপেল এর ১১টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

১. দাঁত শক্ত এবং মজবুত রাখে

দাঁত ভালো রাখতে আপেল এর বিকল্প নেই। আপেলে থাকা ভিটামিন সি দাঁতের গোড়াকে শক্ত করে এবং রক্ত পড়া বন্ধ করে। এছাড়াও আপেলের রস দাঁত সাদা করতে দারুণ কার্যকর। 

২. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

আপেলে রয়েছে ফ্লাভোনল নামের উপাদান যা পরিপাক তন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও স্তন, লিভার, ও কোলন ক্যান্সার এবং শরীরের যেকোনো অংশে ক্যান্সারের কোষ গঠন করতে বাধা প্রদান করে।

৩. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

আপেলে থাকা ফাইবার শরীরে ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে এবং ফ্যাট জমতে বাঁধা দেয়। নিয়মিত আপেল খেলে শরীরে ২৩% পর্যন্ত কোলেস্টেরল কমে যায়। 

৪. হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে আরো বেশি সহজ করে তোলে। নিয়মিত আপেল খেলে হজমশক্তি আগের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত আপেল খেতে পারেন। 

৫. হাঁড়ের ক্ষয়রোধ করে 

আপেল এর খোসায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় যা আমাদের হাঁড়ের ক্ষয়রোধে সহায়ক। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হাঁড় ক্ষয় ও হাঁড়ের জয়েন্টের ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে আপেল ঔষধের ন্যায় কাজ করে। 

৬. ওজন কমাতে সাহায্য করে

আমরা ওজন কমানোর জন্য অনেক খাবার খেয়ে থাকি। তবে ডায়েটের জন্য আপেলকে কী কখনো বিবেচনা করি? 

আপেলে থাকা ফাইবার কোন ক্যালরি ছাড়ায় পেট ভরাতে সাহায্য করে। তাই এটি খেলে ওজন বাড়ার কোনো ভয় নেই। এছাড়াও আপেলে থাকা ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখে যা ওজন কমাতেও কার্যকর। 

৭. লিভার সুস্থ রাখে

আপেল থাকা পেকটিন এবং ফাইবার দেহের পরিপাক নালী হতে টক্সিন ও রক্ত হতে কোলেস্টরোল দূর করে। ফলে লিভার সুস্থ থাকে। এছাড়াও আপেল পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করে খাবার হজমে সহায়তা করে। খালি পেটে আপেল খেলে কি হয় জেনে নিন!

৮. স্নায়ু স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

আপেলে থাকা ‘কোয়েরসেটিন’- এর মাঝে ‘নিউরোপ্রোটেক্টিভ’ এর প্রভাব পেয়েছেন গবেষকরা। অর্থাৎ আপেল নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কে থাকা নিউরণগুলো আরও বেশিসময় কর্মক্ষম থাকে। ফলে স্নায়ু সুস্থ থাকে। এছাড়াও আপেলে থাকা আয়রণ এবং ফসফরাস স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। 

৯. কিডনি পরিষ্কার করে

আপেলে থাকা কারকুমিনে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান কিডনি ভালো রাখার পাশাপাশি কিডনিতে পাথর জমা রোধ করে। তাই কিডনিতে সমস্যা থাকা রোগীদের প্রায় প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

১০. ত্বক ভালো রাখে

আপেলে বিদ্যমান কপার, ক্লোরিন, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এবং আপেল এর রস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। আপেলের রস বলিরেখা দূর করে এবং ত্বকের টিস্যু নষ্ট হতে দেয় না। 

১১. দৃষ্টি উন্নতি করে 

আপেলে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ফাইটো পুষ্টি সমৃদ্ধ, যা চোখের উপর ফ্রি র‌্যাডিকালগুলির প্রভাব হ্রাস করে এবং বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করে। এর প্রভাবে ম্যাকুলার অবক্ষয় ছানি এবং গ্লুকোমার মতো পরিস্থিতি রোধ হয়। 

আপেল এর পুষ্টিগুণ 

আপেলে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত আপেল খেলে  রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রতি ১০০ গ্রাম আপেল কতটুকু পুষ্টি উপাদান রয়েছে –   

পুষ্টি উপাদান পরিমাণ 
কার্বোহাইড্রেড৫২ কিলোক্যালরি 
আমিষ ০.২৬ গ্রাম 
শর্করা ১৩.৮১ গ্রাম 
ফাইবার ২.৪ গ্রাম 
চর্বি ০.১৭ গ্রাম 
ভিটামিন এ ৫৪ আই ইউ 
ভিটামিন সি ৪.৬ মিলিগ্রাম 
ভিটামিন ই ০.১৮ গ্রাম 
পটাশিয়াম ১০৭ মিলিগ্রাম 
ক্যালসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম
কোলেস্টেরল ০ মিলিগ্রাম 
লৌহ ০.১২ মিলিগ্রাম 
জিংক ০.০৪ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ১১ মিলিগ্রাম 
ম্যাগনেসিয়াম ৫ মিলিগ্রাম 
আপেল এর উপকারিতা

আপেল খাওয়ার উপযুক্ত সময়

সকালে খালি পেটে আপেল খাওয়া উপযুক্ত সময়। আপেলের মধ্যে রয়েছে আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিন। এছাড়া কার্বোহাইড্রেটও পাওয়া যায়।  যার ফলে সকালে আপেল খেলে সারাদিন শরীরে এনার্জি পাওয়া যায়। 

পুষ্টিবিজ্ঞানিরা বলেন, সকালবেলা আপেল খেতে পারলে সেটা খুবই উপকারি। কারণ আপেলের খোসা ও আঁশ পেকটিন সমৃদ্ধ। যার ফলে বিকালে বা রাতে আপেল খেলে অনেকেরই অপর্যাপ্ত ঘুম, দেরিতে ঘুম আসা ও হজমজনিত সমস্যা বা বদ হজম হতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে আপেল খাওয়া সবচেয়ে উত্তম।

আপেল এর অপকারিতা 

অতিরিক্ত আপেল খাওয়ার ফলে শরীর একদিনেই বেশিমাত্রায় ক্যালরি গ্রহণ করে। এছাড়াও  আপেলে থাকে ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে ফলে পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বমি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত আপেল খাওয়া থেকে বিরতও থাকতে হবে। 

আপেলের যা কিছু অপকারিতা আছে তা নীচে দেওয়া হলো: 

১. সম্ভাব্য গ্যাস এবং পেট ফুলে যাওয়া

আপেলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। যা পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখে। আপেল বেশি খাওয়ার ফলে পেট ব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বমি হতে পারে। এজন্য নিয়ম মেনে প্রতিদিন ১টি করে আপেল খান। 

২. ওজন বৃদ্ধি করে

আপেলে যেহেতু কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি তাই এটি অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়েট চার্টে একটির বেশি আপেল রাখা ঠিক নয়। 

৩. আপেলের বীজ শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করে

আমরা যখন আপেল খাই তখন অসচেতনভাবে এর বীজ খেয়ে ফেলে। এই বীজ আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কারণ আপেলের বীজ পেটে গিয়ে সায়ানাইড তৈরি করে এবং চিনির সঙ্গে মিশে এটি হাইড্রোজেন সায়ানাইডে পরিণত করে। আপেল জুস রেসিপি-তৈরি করুন বাড়িতেই!

উপসংহার 

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, “An apple a day, keeps the doctor away.” তাই নিয়মিত আপেল খেলে আপনি রোগবালাই থেকে দূরে থাকবেন। আপেল এর উপকারিতা পেতে তাই প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়ার অভ্যাস করুন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top