কিসমিসের উপকারিতা

কিসমিসের ১১ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন!

কিসমিসের উপকারিতা অসংখ্য। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি নানাবিধ উপকার সাধন করে। নীচে কিসমিসের অজানা সকল উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো। 

জেনে নিন কিসমিসের ১১টি উপকারিতা

ক্ষীর, পায়েসের মতো মিষ্টিজাতীয় খাবারে আমরা কিসমিস ব্যবহার করে থাকি। তবে এর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা বেশ কম।আজ আমরা নানাবিধ কিসমিসের উপকারিতা সম্পর্কে জানবো। 

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

কিসমিস আ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে প্রচুর পরিমাণে আ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই, নিয়মিত কিসমিস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। 

২. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

কিসমিসে বিদ্যমান ফাইবার পরিপাকতন্ত্রের কাজে সহায়তা করে। কিসমিস খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। ফলে কারো যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তবে তা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। 

৩. ডায়বেটিস প্রতিরোধ করে

এটি অনেকের কাছেই অজানা যে কিসমিস ডায়বেটিস প্রতিরোধ করে। পরিমিতভাবে কিসমিস খেলে তা শরীরের পোস্টপ্রান্ডিয়াল ইনসুলিন রেসপন্স কমিয়ে দেয়। ফলে খাওয়ার পর শরীরের হঠাৎ ইনসুলিন বৃদ্ধি প্রতিরোধ হয়। এবং ডায়বেটিস রোধ হয়। 

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধক 

আমাদের শরীরে বিদ্যমান র‌্যাডিকল ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধির জন্য দায়ী। কিসমিস এই মুক্ত র‌্যাডিকলগুলি ধ্বংস করে৷ 

কিসমিসে বিদ্যমান ক্যাটেচিন নামক আ্যান্টিঅক্সিডেন্ট র‌্যাডিকলের সাথে লড়াই করে ক্যান্সার প্রতিহত করে। এটি অন্যতম একটি কিসমিসের উপকারিতা। 

৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

কিসমিসে থাকে পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। উচ্চমাত্রার সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ার অন্যতম কারণ, কিসমিস তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। 

৬. সুস্থভাবে ওজন বাড়ায়

কিসমিসে থাকে ফ্রুক্টজ, গ্লুকোজ ও প্রয়োজনীয় পটেনশিয়াল এনার্জি। এটি খারাপ কোলেস্টেরল এড়িয়ে সুস্থভাবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। 

সেজন্য অনেকসময় বিভিন্ন এথলেটদের কিসমিস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

৭. আ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে

আ্যানিমিয়া হচ্ছে রক্তস্বল্পতা। কিসমিসে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা দূর করে৷ এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন বি এর সমাহার যা নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। 

এবং কিসমিস ব্লাড সেল তৈরিতেও সরাসরি ভূমিকা রাখে। কিসমিসের উপকারিতাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। 

৮. দাঁতের যত্নে

কিসমিসে থাকে ফাইটো কেমিকল। এটি দাঁতের ক্ষয় ও ক্যাভিটি থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়াও কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। এটি একাধারে দাঁত শক্ত করে এবং এনামেল তৈরি করে। 

তাই দাঁতের সুস্থতায় কিসমিসের জুড়ি নেই। 

৯. হাঁড়ের স্বাস্থ্য বর্ধন করে

কিসমিসে থাকা বিদ্যমান ক্যালসিয়াম হাঁড়ের বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও কিসমিসে থাকা বোরন হাঁড়ের গঠনে সহায়তা করে। 

১০. ঘুম ভালো হয়

কিসমিসে থাকা আয়রন ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক অবসাদ দূর করে। 

১১. হজমে উপকারিতা 

প্রতিদিন কিসমিস ভিজিয়ে খেলে এটি হজমে সহায়তা করে। কেননা, এতে আছে ফাইবার। এটি পরিপাকক্রিয়ার উন্নতি ঘটায় এবং হজমে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে। 

কিসমিসের পুষ্টিগুণ

আয়রন, ফাইবার, আ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ কিসমিসে বেশকিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারি। নীচে একনজর দেখে নিন কিসমিসে থাকা পুষ্টিগুণ। 

প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিসে থাকে

পুষ্টিউপাদান পরিমাণ
এনার্জি৩০৪ কিলোক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট ৭৪.৬ গ্রাম
ডায়েটরি ফাইবার১.১ গ্রাম
ফ্যাট০.৩ গ্রাম
প্রোটিন ১.৮ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ৮৭ মিলিগ্রাম
আয়রন৭.৭ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৭৮ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম২০.৪ মিলিগ্রাম

যেভাবে খাবেন-

কিসমিস কাঁচা অবস্থায় পানি দিয়ে ভিজিয়ে খাওয়া যায়। আবার রান্না করা বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়েও খাওয়া যায়।

  • কাঁচা:

বাজার থেকে কিনে সরাসরি কাঁচা অবস্থায় আপনি কিসমিস খেয়ে ফেলতে পারেন। তবে অবশ্যই খাওয়ার আগে ধুয়ে নিবেন। কেননা এতে অনেক ধুলাবালি থাকতে পারে। 

  • রান্না করে:

বিভিন্ন খাবার যেমন পায়েস, কোরমা, ক্ষীরজাতীয় খাবারে কিসমিস দেওয়া হয়। এছাড়া আমাদের দেশের অতি জনপ্রিয় পায়েস যেন কিসমিস ছাড়া রান্নার কথা চিন্তাই করা যায় না। 

  • পানি দিয়ে ভিজিয়ে:

কিসমিস রাতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে সকালে খেতে পারেন। এটি কিসমিস খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়। 

এছাড়া কিসমিস ভেজানো পানিও খেয়ে নিতে পারেন। এতে শরীরের উপকার হয়। 

পরিসমাপ্তি 

কিসমিসের উপকারিতা সম্পূর্ণরূপে পেতে সেরা উপায় হলো এটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে খাওয়া। নিয়মিত কিসমিস খেলে এর ফলাফল আপনি নিজেই টের পাবেন। 

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top