মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় কি? কিভাবে এটি নিরাময় করবেন জেনে নিন!

মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় – রোগ শুধু শরীরের না মনেরও। কী নিয়ে কথা বলছি, আশা করি বুঝেছেন। হ্যা,মানসিক রোগ। আমাদের সমাজের একটা বিশাল অংশ এখনো মানসিক রোগ সম্বন্ধে সচেতন না। একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন এর জন্যে শারীরিক সুস্থতা যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রয়োজন মানসিক সুস্থতা।

মানসিক রোগ কি?

 জিন ও ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার জটিল পারষ্পরিক ক্রিয়ার ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ও কর্মক্ষমতার বিপর্যয়ই মানসিক রোগ। মানসিক রোগের কারন গুলো প্রায়ই অস্পষ্ট। মানসিক রোগ সাধারনত একজন ব্যাক্তির আচরণ, মতানৈক্য এবং অনুভূতির সমন্বয় দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়।তাই মানসিক রোগ নির্নয়ের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সামাজিক নিয়মগুলো মাথায় রাখতে হয়।

 মানসিক রোগকে দুইভাগে ভাগ করা যায়ঃ

  • নিউরোটিকঃ
  • সাইকোসিসঃ

১.নিউরোটিকঃ এই শ্রেণির মানসিক রোগীর সংখ্যা অধিক।টেনশন,প্যানিক,অস্বাভাবিক রাগ,শুচিবাই, হিষ্টিরিয়া,ইন্টারনেট আসক্তি,যৌন সমস্যা ও ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।

২.সাইকোসিসঃ এটি গুরুতর মানসিক রোগ। এতে আক্রান্ত রোগী তুলনামূলক কম।মাত্র ১%মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়।সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

মানসিক রোগের কারন কি? মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় –

বাংলাদেশ আধুনিকায়নের দিকে যত এগিয়ে যাচ্ছে,সেই সাথে বাড়ছে প্রযুক্তি নির্ভরতা। মুঠোফোনের আচ্ছন্নতায় পারিবারিক ও সামাজিক জীবন আজ বিপর্যস্ত।ফলশ্রুতিতে বাড়ছে মানসিক অশান্তি যার পরবর্তী রুপ মানসিক রোগ।

আরো পড়ুন- মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? আসুন জেনে নি!

বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ মানসিক রোগে ভোগে।এর পিছনে যে সাধারণ কারন গুলো রয়েছে সেগুলো হলো, দারিদ্র্যতা,পারিবারিক অশান্তি, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব।

এছাড়া অনেক শারীরিক রোগের প্রভাবে মানসিক রোগ হতে পারে।যেমনঃ মৃগীরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিকস,ব্রেইন টিউমার,হার্ট ফেইলিউরের ফলেও মানসিক রোগ হতে পারে। ( মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় )

মানসিক রোগ নিরাময়ের বাধাসমূহ কি কি?

রোগ নির্নয়ে সমস্যাঃ

আমাদের সমাজ এখনও কুসংস্কার আচ্ছন্ন।কারও আচরণগত কোন সমস্যা দেখা দিলে সেটাকে ভূত বা জিনের আছর বলে মেনে নেয়। যার ফলে মানসিক রোগ যে আছে এই ব্যাপারটাকেই উপেক্ষা করা হয়।

 চিকিৎসা সম্পর্কে ভূল ধারণাঃ

  • আমাদের দেশে বেশ কিছুদিন আগেও মানসিক হাসপাতালকে পাগলাগারদ বলা হত।এটি প্রমান করে মানসিক রোগ সম্মন্ধে আমরা কতটুকু সচেতন।
  • এছাড়া মানসিক রোগের পথ্য নিয়ে আছে ভুলধারনা।অনেকে মনে করেন শুধুমাত্র কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হয়।
  • এছাড়া অনেকে না জেনে ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলে।যা মানসিক রোগের চিকিৎসা নেয়া থেকে অনেককে বিরত করে।

মানসিক রোগের চিকিৎসা কি কি?

সাইকোসিস তথা গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ওষুধ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।ওষুধের পাশাপাশি কাউন্সেলিং চলিয়ে যেতে হয়।কিছুক্ষেত্রে এই চিকিৎসা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়।

নিউরোটিক তথা কম গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং খুব কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি। এছাড়া মানসিক রোগে আক্রান্ত এমন মানুষকে একটা ভালো জীবনযাপনের সুযোগ দিলে, আরোগ্য লাভ অনেক কম সময়সাপেক্ষ হয়।

লেখেছেনঃ সায়মা রাহমান

আরো পড়ুন- মস্তিষ্কের জন্যে ক্ষতিকর অভ্যাস গুলো দূর করে নিজেকে পরিবর্তন করার উপায়

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *