তেতুলের ১২ উপকারিতা

তেতুলের ১২টি উপকারিতা ও ভেষজ গুণ জেনে নিন!

তেতুল নাম নিলেই যেন জিভে জল চলে আসে। বিশেষ করে তরুণীদের পছন্দের একটি ফল তেতুল। অনেকেরই ভুল ধারণা “তেতুল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’ কিন্তু আপনি জানেন কি তেতুলের উপকারিতা এবং এর গুণের কথা? আজ তাই আলোচনা করবো তেতুলের সমস্ত উপকারিতা নিয়ে।  

তেতুলের উপকারিতা 

আমাদের দেশে ছোট বড় সকলের একটি পছন্দের ফল হলো তেতুল। তেতুল পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। শারীরিক নানা সমস্যার সমাধানে বেশ উপকার সাধন করে এই তেতুল। এর রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। 

তেতুলের উপকারিতা অনেকের জানা নেই বলে তেতুল নিয়ে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। তাই চলুন আর কথা না বাড়িয়ে চলে যায় মূল আলোচনায়।  

১. হার্ট সুস্থ রাখতে তেতুল

হার্ট সুস্থ রাখতে তেতুলের জুড়ি মেলা ভার। তেতুল আমাদের শরীরে ব্যাড কোলেস্টেরল কমিয়ে গুড কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও তেতুল রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড নামক এক প্রকার ফ্যাট জমতে দেয় না। ফলে আমাদের হার্ট সুস্থ থাকে। আর তাই তেতুলকে হার্টের টনিক বলা হয়। 

২. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে 

তেতুল হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তেতুলে থাকা নানা উপাদান আমাদের পেটের বিভিন্ন রোগ যেমন পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগ হতে মুক্তি দেয়। 

৩. ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে

তেতুল মানব দেহে ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা পালন করে থাকে। কারণ এতে  আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম। নিয়মিত তেতুল খেলে ক্যান্সার রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। 

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে 

তেতুলে রয়েছে টার্টারিক এসিড, ম্যালিক এসিড এবং পটাশিয়াম যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে । 

৫. ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করতে

তেতুল ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করতে সক্ষম। নিয়মিত তেতুল খাওয়ার ফলে ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগা, এ্যাজমা প্রভৃতি রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়।

৬. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

তেতুলে বিদ্যমান এনজাইম উপাদান রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়াও নিয়মিত তেতুলের বীজ খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস নিরাময় করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে থাকে। 

৭. পেটের ব্যথা দূর করতে 

তেতুল গাছের পাতা, ছাল বা বাকল পেটের ব্যথা দূর করতে দারুণ উপকারী। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে যে ঔষধ তেতুলের পাতা, ছাল এবং শেকড় দ্বারা তৈরি করা হয় সে ঔষধ সেবনে পেটের ব্যথা উপশম হয়। 

৮. লিভার সুরক্ষিত রাখতে 

তেতুল লিভারের বিভিন্ন রোগ সারতে সাহায্য  করে। নিয়মিত তেতুল খাওয়ার ফলে আমাদের লিভার সুরক্ষিত থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ড্যামেজ কিডনির চিকিৎসাই নিয়মিত তেতুল পাতা খাওয়ার ফলে আসানুরুপ ফল পাওয়া গেছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় তেতুল লিভারকে সুরক্ষিত রাখে। জন্ডিস রোগ সারতেও তেতুল বেশ উপকারী। 

৯. ক্ষত নিরাময় করতে

তেতুল গাছের পাতা এবং ছালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এন্টিসেপ্টিক উপাদান যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষত নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। 

১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে 

তেতুল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কারণ তেতুলে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার যা সম্পুর্ন ফ্যাট ফ্রী বিধায় তেতুল সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায় না। 

১১. আলসার নিয়ন্ত্রণে

তেতুলের বীজ আলসার নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর। তেতুলে উপস্থিত পলিফেনলিক কম্পাউন্ডে আলসার সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তেতুলের বীজ গুড়ো করে নিয়মিত খেলে পেপটিক আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।  

১২. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে 

তেতুল শুধু শারীরিক সমস্যার সমাধান নয়, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তেতুল দারুণ উপকারী। তেতুল সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি হতে আমাদের ত্বক কে সুরক্ষা প্রদান করে। তেতুলের উপকারিতা ছাড়াও এতে রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। 

তেতুলের ভেষজ গুণ 

তেতুল ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি ফল। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণ। এন্টিমাইক্রোবিয়াল বা জীবাণুরোধক গুনসম্পন্ন এই তেতুল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। অন্যান্য ফলের চেয়ে তেতুলে আছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি খনিজ পদার্থ। 

এছাড়াও তেতুলে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি যা কাটা-ছেড়া এবং শরীরের বিভিন্ন ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে। এতে থাকা  এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। 

বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ এই তেতুল ত্বক, চুল, দাঁত ও হাড়কে মজবুত করে এবং চোখের বিভিন্ন রোগ যেমন রাতকাণা, চোখ ওঠা, চোখের পাতায় সংক্রমণজনিত সমস্যাগুলি দূর করে। 

শেষ কথা 

সব শেষে বলা যায়, টক জাতীয় ফলের মধ্যে তেতুল একটি উপকারি ফল। নানা ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ তেতুলের উপকারিতা আমাদের শরীরের জন্য বেশ কার্যকর। এটি কাঁচা পাকা দুটোই খাওয়া যায়। তাই আমাদের দেশে ছোট বড় সকলের কাছেই এটি জনপ্রিয়। 

শেয়ার করুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top